অক্টোবর ২৪, ২০২৫, ০৯:১৯ পিএম
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও দেশে এখনো একটি মানসম্মত ও টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই গুরুত্বপূর্ণ খাতের সংস্কারের জন্য বড় ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করে এবং একটি সংস্কার কমিশন গঠন করে। সেই কমিশনের সুপারিশগুলোই এবার বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। বর্তমানে দেশের স্বাস্থ্য সেবা, শিক্ষা ও গবেষণার পুরো কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মোট সাতটি পৃথক প্রতিষ্ঠান ও অধিদফতর চালু রয়েছে।
এগুলো হলো স্বাস্থ্য অধিদফতর, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতর, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতর, জাতীয় পুষ্টি পরিষদ, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট এবং জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতগুলো প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তীব্র সমন্বয়হীনতার কারণে স্বাস্থ্য খাতের সার্বিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল। এই জটিলতা ও সমন্বয়হীনতা দূর করার লক্ষ্যেই বিদ্যমান সাতটি প্রতিষ্ঠানকে ভেঙে তিনটি অধিদফতরে পুনর্গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, বর্তমান স্বাস্থ্য অধিদফতরের নাম পরিবর্তন করে ‘চিকিৎসা সেবা অধিদফতর’ রাখা হচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের সব হাসপাতালের সেবার মান নিশ্চিত করার বিষয়টি দেখভাল করবে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও রোগ প্রতিরোধকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ‘প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও জনস্বাস্থ্য’ নামে সম্পূর্ণ নতুন একটি অধিদফতর চালু করা হচ্ছে। এছাড়া এমবিবিএস, ডেন্টাল ও নার্সিংসহ সব ধরনের চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার দায়িত্ব পালনের জন্য তৃতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘স্বাস্থ্য শিক্ষা ও গবেষণা অধিদফতর’ কাজ করবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক সায়েদুর রহমান জানিয়েছেন, হাজার হাজার পদকে একটি কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসা, বিভিন্ন গ্রেড মিলিয়ে শ্রেণিবিন্যাস করা একটি অত্যন্ত কঠিন ও দীর্ঘ প্রক্রিয়া। তবে নীতিগতভাবে শীর্ষ পদগুলো একীভূত করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে এবং দ্রুতই এর অনুমোদন হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সংস্কারের পাশাপাশি ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরকেও আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। এর নতুন নামকরণ হচ্ছে ‘মেডিসিন অ্যান্ড হেলথকেয়ার প্রোডাক্টস রেগুলেটরি অথরিটি’ (এমএইচআরএ)।
এই প্রতিষ্ঠানটি ওষুধের পাশাপাশি কসমেটিক সামগ্রীর মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও দেখভাল করবে। অধ্যাপক সায়েদুর রহমান আরও বলেন, এই সকল লোক বদল বা পুনর্গঠনের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষ যেন প্রয়োজনের মুহূর্তে বিভিন্ন ধরনের সেবা একইসাথে বা সমন্বিতভাবে পান, তা নিশ্চিত করা। এছাড়া, ওষুধ, ভ্যাকসিন ও স্বাস্থ্যপ্রযুক্তির উপযোগিতা মূল্যায়নে একটি ‘হেলথ টেকনোলজি অ্যাসেসমেন্ট ইউনিট’ গঠন করা হচ্ছে, যা স্বাস্থ্য খাতে প্রযুক্তি ক্রয়ের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দেবে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন