নভেম্বর ৫, ২০২৫, ০৬:০৩ পিএম
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সরকারি পদে ধর্মীয় শিক্ষকসহ অন্যান্য পদের জন্য দাওরায়ে হাদিস সনদধারীদের নিয়োগ দিতে অনুরোধ জানিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানিয়ে তিনি শিক্ষা উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টা এবং প্রতিরক্ষা সচিবের কাছে পৃথকভাবে ডিও লেটার (আধা-সরকারি পত্র) পাঠিয়েছেন।ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।
দেশে বর্তমানে বিশ হাজারেরও বেশি কওমি মাদরাসা রয়েছে এবং প্রতি বছর এসব মাদরাসা থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী দাওরায়ে হাদিসের (তাকমীল) সনদ লাভ করে থাকেন।শিক্ষা উপদেষ্টাকে পাঠানো পত্রে ধর্ম উপদেষ্টা উল্লেখ করেছেন, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে মহান জাতীয় সংসদে "আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ -এর অধীন কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের (তাকমীল) সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) এর সমমান প্রদান আইন, ২০১৮" পাস হয় এবং সেদিনই তা বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।
তবে তিনি আক্ষেপ করে লেখেন, আইনটি প্রণীত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও কওমি অঙ্গনের শিক্ষার্থীরা এই আইনের কোনো সুফল পাচ্ছেন না। এতে আইন প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে এবং কওমি অঙ্গনের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে।ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (ধর্ম) পদে দাওরায়ে হাদিস সনদধারীদের নিয়োগের বিষয়ে শিক্ষা উপদেষ্টার ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
শিক্ষাক্ষেত্রের পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদেও নিয়োগের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা। একইভাবে দাওরায়ে হাদিস সনদধারীদের নিকাহ রেজিস্ট্রারের লাইসেন্স প্রদানে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টাকে উদ্যোগ নিতে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
এছাড়াও, ধর্ম উপদেষ্টা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর ধর্মীয় শিক্ষক পদে দাওরায়ে হাদিস সনদধারীদের নিয়োগ দেওয়ার জন্যও প্রতিরক্ষা সচিব বরাবর একটি আধা-সরকারি পত্র দিয়েছেন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কওমি মাদরাসার বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন