সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইসলামি দলগুলোর ঐক্য নিয়ে যে বার্তা দিলেন হেফাজত আমির

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ৮, ২০২৫, ০৩:৫২ পিএম

ইসলামি দলগুলোর ঐক্য নিয়ে যে বার্তা দিলেন হেফাজত আমির

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেছেন, সহিহ আকিদার ওপর প্রতিষ্ঠিত সব ইসলামি দল যদি ঐক্যবদ্ধ হতে পারে, তবে সেটিই সর্বোত্তম হবে।

তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই আহ্বান জানিয়ে আসছেন, তবে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন যে, এখনো সেই ঐক্যের পরিবেশ তৈরি হয়নি।শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে দাওয়াতুল ইহসান বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত এক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।হেফাজত আমির মন্তব্য করেন, দেশ বর্তমানে এক কঠিন সময় অতিক্রম করছে, যখন ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ইসলামী মূল্যবোধের ওপর আঘাত আসছে।

তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, "সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের দেশ বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের অফিস স্থাপনের চুক্তি আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ধর্মীয় মূল্যবোধের জন্য এক অশনি সংকেত।" তিনি এই চুক্তির তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তা বাতিলের দাবি জানান।

মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদার মূলভিত্তি তুলে ধরেন—কুরআন, সুন্নাহ, সাহাবায়ে কিরাম (রা.) ও সালফে সালেহীনের পথ অনুসরণ।তিনি বলেন, কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী ইসলামের এই বিশুদ্ধ ঐতিহ্য থেকে সরে গিয়ে নতুন নতুন মতবাদ প্রচার করছে। বিশেষ করে, তিনি আবুল আলা মওদূদীর লেখনীর সমালোচনা করে বলেন, তার কিছু ধারণা আহলে সুন্নতের মূলধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন:আকাবিরে দেওবন্দ স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন— ‘মওদূদী সাহেবের চিন্তা আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আকিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ইসলাম কেবল একটি রাজনৈতিক মতবাদ নয়; বরং এটি আখলাক, তাযকিয়া ও ইলমে ওহীর উপর প্রতিষ্ঠিত পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা।’"তিনি সব ইসলামি দল ও অরাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানান—আকিদা ও মানহাজের একত্ব বজায় রেখে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য।

তিনি সতর্ক করে বলেন, যাদের ভ্রান্ত বিশ্বাস রয়েছে, যারা আম্বিয়া (আ.) ও সাহাবায়ে কিরাম সম্পর্কে অসম্মানজনক ধারণা পোষণ করে—তারা আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের অন্তর্ভুক্ত নয়, তাদের সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি।হেফাজত আমির বলেন, কওমি মাদ্রাসাগুলো শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়—বরং ইসলামী সভ্যতা, সংস্কৃতি ও জাতীয় চেতনার ধারক-বাহক। তাই এর ঐতিহ্য সংরক্ষণ, পাঠ্যসূচির উন্নয়ন ও শিক্ষকদের সম্মান রক্ষায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ওপর তিনি জোর দেন।