শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সবার নিরপেক্ষতা নিশ্চিতের দাবি এনসিপি নেতার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ২০, ২০২৫, ১১:৩১ পিএম

নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সবার নিরপেক্ষতা নিশ্চিতের দাবি এনসিপি নেতার

ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি বা এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে নির্বাচনসংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কর্মকর্তাদের শতভাগ নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) রাতে পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে ঐতিহ্যবাহী আলোয়াখোয়া রাশ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এই মন্তব্য করেন।

সারজিস আলম সদ্য সমাপ্ত বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা খুন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ যত অপরাধ করেছেন, তার তুলনায় এই শান্তি খুবই নগণ্য।

সারজিস আলম বলেন, তারা এখন শেখ হাসিনার রায় কার্যকরের অপেক্ষায় রয়েছেন। তিনি আশা করেন, এই রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে এবং একজন স্বৈরাচারকে ফাঁসিতে ঝুলতে দেখার মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে দেশ এগিয়ে যাবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভারত যতদিন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে ফেরত দেবে না, ততদিন বাংলাদেশ নিয়ে তাদের মন্তব্য দেশের জনগণের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।

তিনি মনে করেন, সরকার এরই মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিশ্রুতি পালন করেছে; তারা জুলাই গণহত্যার নির্দেশদাতা এবং অসংখ্য খুনের খুনি শেখ হাসিনার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করেছে। এটি সরকারের একটি সফলতা। পাশাপাশি জুলাই সনদ গণভোট নোট অব ডিসেন্টের যে বিষয়গুলো, তার প্রতিশ্রুতি অনেকাংশে পূরণ করেছে। এনসিপি নেতা বলেন, তারা জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং মৌলিক সংস্কারগুলো বাস্তবায়নের পথে যেতে চান এবং একটি সুষ্ঠু গণভোট চান। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, আগামীতে বাংলাদেশে দুর্নীতিগ্রস্ত সিস্টেমগুলো সংস্কারের বিপক্ষে যারা থাকবে, গণভোটে যারা 'না'-এর পক্ষে থাকবে, তারা বাংলাদেশপন্থী হতে পারে না।

তিনি জানান, আগামীতে এনসিপি সেই সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে পথ চলতে পারে, যারা সংস্কারের পক্ষে থাকবে, গণভোটের পক্ষে থাকবে এবং বিচারিক প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের পক্ষে থাকবে। সেই জায়গায় তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে এই নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করার এবং ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন নিশ্চিত করার দাবি জানান। এর জন্য প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী এবং নির্বাচনসংশ্লিষ্ট অফিসারসহ যারা থাকবেন, তাদের প্রত্যেকের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই জায়গায় বিগত সময়ে দলান্ধ তোষামোদকারী বা দলীয় পরিচয়ে যারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও ফায়দা নিয়েছেন, তাদের যেন বিন্দুমাত্র স্থান না দেওয়া হয়। তিনি বিশ্বাস করেন, আগামীতে যদি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো প্রশাসনকে সহযোগিতা করে এবং প্রশাসনও যদি তাদের পেশাদারি বজায় রাখে, তাহলে ইনশাআল্লাহ আগামী ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ইতিহাসের সবচেয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক নির্বাচন পেতে চলেছে।