সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

দিল্লিকে চিঠির পরই বিচলিত কামাল, ভারত ছাড়ার বিষয়ে ফোনালাপ ফাঁস

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ৬, ২০২৫, ১১:০২ এএম

দিল্লিকে চিঠির পরই বিচলিত কামাল, ভারত ছাড়ার বিষয়ে ফোনালাপ ফাঁস

জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সেখানে অবস্থান করা আর নিরাপদ নয় বলে মন্তব্য করেছেন। সম্প্রতি তিনি ভারতে অবস্থানকারী তার এক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির সঙ্গে ফোনালাপে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

টেলিফোনে তিন মিনিটের ওই কথোপকথনের অডিও রেকর্ড আমার দেশ-এর হাতে এসেছে। মূলত ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক কামালকে ফেরত চেয়ে ভারত সরকারের কাছে কূটনৈতিক চিঠি দেওয়ায় তিনি বিচলিত হয়ে পড়েন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আমার দেশকে জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের।

রায়ের সূত্র ধরে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকে ফেরত চেয়ে ঢাকার তরফ থেকে দিল্লিকে চিঠি দেওয়ার পরপরই তিনি বিচলিত হয়ে পড়েন। ইতোমধ্যেই তিনি তার এক বছরের পুরোনো ঠিকানা পরিবর্তন করে সে দেশেরই অজ্ঞাত স্থানে আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।ফোনালাপে, ঘনিষ্ঠতার সূত্র টেনে ওই ব্যক্তি কামালের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ চাইলে কামাল আপাতত দেখা করতে অসম্মতি জানান। তিনি বলেন, "আপাতত দেখা করতে চাচ্ছি না।

কয়েকদিন পরে প্রয়োজনে আমিই ডেকে কথা বলব।" সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাবে ওই ব্যক্তি জানান যে তিনি কামালের পুরোনো বাসার সামনে চলে এসেছেন। এ পর্যায়ে কামাল বলেন, "আমি এখন ওই ঠিকানায় থাকি না। ওইখান থেকে অন্যত্র চলে এসেছি। আর ভারত তাদের দেশে আমাদের আশ্রয় দিয়েছে। আমাদেরও এমন কোনো কাজ করা ঠিক নয়, যাতে তাদের সমস্যা হয়।" নতুন ঠিকানার কথা গোপন রেখে কামাল আরও বলেন, "আমি তো এখানেও নিরাপদ মনে করছি না। নতুন কোনো চিন্তা করতে হচ্ছে।

 তিনি জানান, নতুন চিন্তার বিষয়ে পরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলবেন। উল্লেখ্য, গত বছর ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনার পাশাপাশি তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালও পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন। গত ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার রায় দেন।