সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

নিস্তব্ধ ‘ফিরোজা’: সবই আছে, নেই শুধু প্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়া

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ১, ২০২৬, ১০:৫২ পিএম

নিস্তব্ধ ‘ফিরোজা’: সবই আছে, নেই শুধু প্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়া

রাজধানীর গুলশানের বাসভবন ফিরোজা এখন এক গভীর নিস্তব্ধতায় নিমজ্জিত। বাড়ির আসবাবপত্র, চারপাশের সাজানো বাগান কিংবা প্রহরীদের নিরাপত্তা ছাউনি সবকিছুই আগের মতো অটুট থাকলেও নেই শুধু সেই মানুষটি যার উপস্থিতিতে মুখর থাকত এই আঙিনা।

বৃহস্পতিবার সকালে গুলশানের এই বাসভবনের সামনে গিয়ে দেখা যায় এক অত্যন্ত বেদনাবিধুর পরিবেশ। যারা দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বেগম খালেদা জিয়ার সেবা ও নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন তাদের চোখেমুখে আজ কেবলই হারানোর বিষণ্নতা।

বাড়ির ফটকে দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মীদের প্রায় সবাই বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করে নিরবে শোক পালন করছেন। তাদের একজন অশ্রুসজল চোখে বলছিলেন ম্যাডাম সবসময় তাদের খাবারের খোঁজ নিতেন এবং অভিভাবকের মতো আগলে রাখতেন।

আজ সেই প্রিয় মানুষটির অনুপস্থিতিতে পুরো বাড়িটাই যেন শূন্যতায় খাঁ খাঁ করছে।বিএনপি নেত্রীর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক বড় অংশ জুড়ে ছিল এই ফিরোজা। ২০০৭ সালের এক-এগারোর পরবর্তী সময়ে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের পর এই গুলশানের বাড়িটিই হয়ে উঠেছিল তার প্রধান নিবাস। এখান থেকেই তিনি আদালতের রায়ে কারাগারে গিয়েছিলেন আবার শর্তসাপেক্ষ মুক্তি পাওয়ার পর এই বাড়িতেই ফিরে এসেছিলেন। বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান এই বাড়ির প্রতিটি ধূলিকণায় বেগম জিয়ার স্মৃতি মিশে আছে।

যারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকে এই পরিবারের সঙ্গে আছেন তাদের শোক আজ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। বাড়ির ভেতরে পা রাখলে এখনো যেন তার জীবন্ত উপস্থিতি অনুভব করা যায় কিন্তু বাস্তবতা হলো তিনি আর কোনোদিন এই বারান্দায় এসে দাঁড়াবেন না।বর্তমানে ফিরোজার পাশের বাড়িতে অবস্থান করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মায়ের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে উঠতে তিনি দিনভর ইবাদত-বন্দেগি ও কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সময় কাটাচ্ছেন। আত্মীয়-স্বজনরা তাকে সান্ত্বনা দিতে এলে তিনি বারবার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ছেন এবং মায়ের নানা স্মৃতি চারণ করছেন।

গুলশান এলাকাটি কূটনৈতিক জোনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সেখানে সাধারণ মানুষের যাতায়াত কিছুটা সীমিত থাকলেও স্থানীয় অনেক বাসিন্দা বাড়ির সামনে এসে নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে তাদের নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। এলাকাবাসী মনে করেন বেগম জিয়ার চলে যাওয়া কেবল একটি দলের ক্ষতি নয় বরং এটি দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য এক বিশাল শূন্যতা।এদিকে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়েও আজ বইছে শোকের ছায়া। কার্যালয়ের সামনে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে এবং জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।

সেখানে একটি শোক বই খোলা হয়েছে যেখানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা স্বাক্ষর করছেন। মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জেকবসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এবং জাতীয় নেতারা শোক বইতে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। গত মঙ্গলবার ভোরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বেগম খালেদা জিয়া এবং বুধবার তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জিয়া উদ্যানে সমাহিত করা হয়। কিন্তু ফিরোজার সেই পরিচিত পরিবেশ আজ কেবলই এক নিঃসঙ্গ স্মৃতির সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।