রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

প্রশাসন নিরপেক্ষ না হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে: খেলাফত মজলিস

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ৮, ২০২৬, ০৮:৪২ পিএম

প্রশাসন নিরপেক্ষ না হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে: খেলাফত মজলিস

প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে খেলাফত মজলিস। বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত মাসিক নির্বাহী বৈঠকে নেতারা এই আশঙ্কার কথা জানান।

তারা বলেন যে নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে একটি বিশেষ দলের প্রতি প্রশাসনের ঝোঁক তত স্পষ্ট হচ্ছে। এতে সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের মনে আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে।

সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য ভোট নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও কঠোর ও নিরপেক্ষ হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

বৈঠকে নেতারা রাজধানীতে রাজনৈতিক নেতা ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা অভিযোগ করেন যে প্রকাশ্য দিবালোকে খুনিরা পালিয়ে গেলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো মূল পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। গোয়েন্দা নজরদারির অভাব ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কারণে সন্ত্রাসীরা এখন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে তারা মনে করেন। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক অপশক্তিগুলো নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে মাঠে নেমেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে ফায়দা লুটতে চাইছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে বেশ কিছু দাবি জানানো হয়েছে। তারা অবিলম্বে নির্বাচনি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল বাড়ানো, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সাঁড়াশি অভিযান জোরদার করার দাবি তোলেন। নির্বাচনের আগে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূল করা না গেলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করবে। নেতারা স্পষ্ট করে বলেন যে খুনি ও ফ্যাসিবাদী শক্তির যেকোনো ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়ে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব।

খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের। বৈঠকে নেতারা দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলেন যে দেশের মানুষ একটি অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে চায়। যদি নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয় তবে তার দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে স্বচ্ছতার কোনো বিকল্প নেই বলেও তারা উল্লেখ করেন।