রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইসলামী আন্দোলনকে নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য পরিহারের আহ্বান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ১৫, ২০২৬, ১২:২৯ পিএম

ইসলামী আন্দোলনকে নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য পরিহারের আহ্বান

ডাঃ শফিকুর রহমান

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশে একটি ভয়হীন পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান। তিনি মনে করেন নির্বাচন কেবল একটি প্রক্রিয়া নয় বরং এটি একটি সুন্দর ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রথম ধাপ। 

সম্প্রতি রাজধানীর একটি সম্মেলন কেন্দ্রে অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আমীরে জামায়াত তার বক্তব্যে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে এবং গোপন বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা এখন সময়ের দাবি। সিসিটিভি থাকলে ভোটের স্বচ্ছতা বজায় থাকবে এবং কেউ কারচুপির সাহস পাবে না বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই যেখানে একজন ভোটার তার পছন্দের প্রার্থীকে কোনো বাধা ছাড়াই ভোট দিতে পারবেন। একই সঙ্গে ভোটাররা যাতে ভোট দিয়ে নিশ্চিত মনে বাড়ি ফিরতে পারেন এবং ভোটের সঠিক ফলাফল দেখতে পান সেই দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। 

ফলে দেশের মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে এক ধরনের অনাস্থা তৈরি হয়েছে। এই অনাস্থা দূর করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষতার চরম পরীক্ষা দিতে হবে। যদি কোনো মহল নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিং বা কারসাজি করার চেষ্টা করে তবে এদেশের সাধারণ মানুষ তাদের প্রতিহত করবে।

তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের প্রতি বিশেষ বার্তা দিয়ে ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন এদেশের তরুণরাই গত আগস্টে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী তরুণদের কথা দিয়েছে যে এবার তারা ভোট দিতে পারবে।

 তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে সাধারণ মানুষ ভোট দেবে আর সেই ভোটের পাহারাদার হিসেবে থাকবে পুরো জাতি। কোনো আপস বা রাজনৈতিক সমঝোতার নির্বাচন এদেশের মানুষ আর মেনে নেবে না। তিনি আরও বলেন দেশ সংস্কারের কাজগুলো এমনভাবে করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কোনো স্বৈরাচার আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলে একটি ইনসাফ কায়েমের লক্ষ্য নিয়ে সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন জামায়াতে ইসলামী শুধু ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করে না বরং মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে থাকে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং বৈদেশিক হস্তক্ষেপমুক্ত একটি স্বাধীন নির্বাচন আয়োজন করা এখন জাতীয় কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

তিনি বিদেশি কূটনীতিক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের সঙ্গেও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছেন বলে জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে সব রাজনৈতিক দল ও জনগণের অংশগ্রহণে একটি উৎসবমুখর পরিবেশে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে যা বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তিকে নতুন করে উজ্জ্বল করবে।