জানুয়ারি ১৫, ২০২৬, ০১:১৭ পিএম
আসন বণ্টন নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে ভেঙে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ইসলামি জোট। জোটের অন্যতম প্রধান শরিক চরমোনাই পীর মুফতি রেজাউল করিমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই জোটে আর থাকছে না বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আজই আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের জোট ত্যাগের ঘোষণা আসার কথা রয়েছে।
জামায়াত সূত্র জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহ ধরে দফায় দফায় আলোচনার পরও আসন সমঝোতা না হওয়ায় এই বিচ্ছেদ ঘটছে। ইসলামী আন্দোলন জোটে থাকার শর্ত হিসেবে কমপক্ষে ৮০টি আসন দাবি করেছিল। অন্যদিকে জামায়াত তাদের ৪৫টির বেশি আসন ছাড়তে রাজি হয়নি।
আসন নিয়ে টানাপোড়েন: জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মতে, নতুন করে জোটে এনসিপি, এলডিপি ও এবি পার্টি যুক্ত হওয়ায় পুরনো শরিকদের জন্য আসন ছাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই তিন দলকে ৩৮টি আসন দিতে হচ্ছে। জামায়াতের দাবি, তাদের অভ্যন্তরীণ জরিপ অনুযায়ী ইসলামী আন্দোলনের জনসমর্থন সারাদেশে ৩ শতাংশ, অথচ এনসিপির সমর্থন ৭ শতাংশ। এনসিপি ৩০টি আসন মেনে নিলেও ইসলামী আন্দোলন ৬৫-৭০টি আসনে অনড় রয়েছে।
মামুনুল হকের মধ্যস্থতা ও বিকল্প কৌশল: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। ইসলামী আন্দোলন জোট ছাড়লে তারা বাংলাদেশ খেলাফত ও জোটের অপর তিনটি ধর্মভিত্তিক দলকে নিয়ে নতুন জোট গঠনের আভাস দিয়েছে।
অন্যদিকে, জামায়াত চরমোনাই পীরকে ছাড়াই এনসিপি, এলডিপি, এবি পার্টি ও মামুনুল হকের দলকে নিয়ে জোট ধরে রাখার পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে হেফাজতে ইসলামের প্রভাব বিবেচনায় মাওলানা মামুনুল হকের দলকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াত। ইতোমধ্যে ২৭৬টি আসনে প্রার্থী দিলেও শরিকদের জন্য বেশ কিছু আসন খালি রেখেছে দলটি।
জামায়াতের প্রতিক্রিয়া: সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, "সমঝোতা বজায় রাখার স্বার্থেই আমরা সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করেছি। আশা করছি আলোচনার মাধ্যমে সব সমাধান হয়ে যাবে।"
একনজরে জোটের বর্তমান চিত্র:
- ইসলামী আন্দোলনের দাবি: ৮০ আসন (জামায়াত দিতে চায় ৪৫টি)।
- জামায়াতের জোট সঙ্গী: এনসিপি (৭% জনসমর্থন), এবি পার্টি, এলডিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ ১০ দল।
- জামায়াতের মনোনয়ন: ২৭৬টি আসনে নিজস্ব প্রার্থী চূড়ান্ত।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন