জানুয়ারি ১৫, ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম
দীর্ঘ সময় ধরে চলা নাটকীয় পরিস্থিতি ও টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আসন সমঝোতায় পৌঁছেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। নির্বাচনী লড়াইয়ে এই জোটের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’।
জোটে থাকা নিয়ে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দীর্ঘ সংশয় ও অস্বস্তি থাকলেও সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ ১৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় এই চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে যাচ্ছে। দিনভর ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর শরিক দলগুলো একটি ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।
জোটের একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যে মোট ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৮৬টি আসনে সমঝোতা ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। এই বিশাল নির্বাচনী ঐক্যে প্রধান শরিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী সম্ভাব্য ১৭৬টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পাচ্ছে ৪৫টি আসন। এ ছাড়াও এনসিপিকে ২৭টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৬টি এবং খেলাফত মজলিসকে ৯টি আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জোটের অন্য শরিকদের মধ্যে এলডিপি ৭টি, এবি পার্টি ৩টি এবং বিডিপি ও নেজামে ইসলামকে ২টি করে আসন দেওয়া হয়েছে।সূত্র নিশ্চিত করেছে যে বাকি ১৪টি আসনের বিষয়ে এখনো আলোচনা চলছে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেগুলোর ফয়সালা হবে। তবে জোটের এই সমঝোতায় একটি বিশেষ পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।
জোটে থাকা সত্ত্বেও জাগপা ও খেলাফত আন্দোলন এবারের নির্বাচনে আপাতত কোনো আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে না বলে দল দুটির নেতৃবৃন্দ নিশ্চিত করেছেন। মূলত বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে এবং শক্তিশালী প্রার্থী দেওয়ার কৌশল হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যকার দূরত্ব ঘুচিয়ে এই জোট গঠন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি বড় ধরণের প্রভাব ফেলবে। আসন বণ্টন নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল তা কাটিয়ে ওঠায় জোটের নেতাকর্মীরা এখন নির্বাচনী প্রচারণায় পূর্ণ গতিতে নামতে পারবেন। আজ রাতেই জোটের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই আসন বণ্টনের তালিকা ও নির্বাচনী ইশতেহারের মূল বিষয়গুলো জাতির সামনে তুলে ধরার কথা রয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন