জানুয়ারি ২১, ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম
কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে। প্রার্থিতা বৈধ করার দাবিতে তার করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন।
এর ফলে বর্তমানে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন তিনি এবং ২০ জানুয়ারি প্রাথমিক শুনানি শেষে আজ আদেশের জন্য দিন ধার্য ছিল।
শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী মো. ফয়েজুল্লাহ ফয়েজ আদালতে যুক্তি দেখান যে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী তার দাখিলকৃত হলফনামায় ব্যাংক ঋণের তথ্য গোপন করেছেন যা নির্বাচনী আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
অন্যদিকে একই আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ এই রায়ের পর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন যে দেশের মানুষ ব্যাংক লুটেরা ও ঋণখেলাপিদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ব্যাংক লুট করে কাউকেই সংসদে যেতে দেওয়া হবে না। হাসনাত আবদুল্লাহ আরও প্রশ্ন তোলেন যে আইনবহির্ভূতভাবে যদি কোনো ঋণখেলাপিকে নির্বাচনে সুযোগ দেওয়া হয় তবে নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ কী দোষ করেছিল। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
আদালতের এই আদেশের ফলে কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির কোনো বৈধ প্রার্থী না থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করবেন। এই আসনটি বর্তমান রাজনীতিতে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং হেভিওয়েট প্রার্থীদের এই আইনি লড়াই সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন