জানুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হতে পারলে উত্তরবঙ্গের ভাগ্য বদলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রথম বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে ১০ দলীয় ঐক্য জোট আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। জামায়াত আমির বলেন যে নদী জীবন ফিরে পেলে তবেই উত্তরবঙ্গ জীবন ফিরে পাবে। তাই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সময়ের দাবি।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কার ভালো লাগলো বা কার লাগলো না তা নিয়ে জামায়াত বিচলিত নয় বরং দায়িত্ব পেলে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে প্রথম কোদাল তিস্তাতেই বসানো হবে।
সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান গত ১৭ বছরের শাসন আমলের সমালোচনা করে বলেন যে দেশের মানুষ দীর্ঘ সময় ফ্যাসিবাদের কবলে পড়ে তাদের মৌলিক অধিকার হারিয়েছিল। লুটপাটের মাধ্যমে বিদেশে বেগমপাড়া তৈরির সমালোচনা করে তিনি বলেন আলেম ওলামাদের হত্যা করে এবং নারীদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে কেউ শান্তিতে থাকতে পারেনি।
২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে চব্বিশের ৫ আগস্ট পর্যন্ত অসংখ্য মানুষকে গুম ও হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। জামায়াত আমিরের মতে ৫ আগস্টের পর শান্তির আশা থাকলেও অনেক জায়গায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে তবে রংপুরের মানুষ সবসময় শান্তশিষ্ট ও অল্পে তুষ্ট।নির্বাচনী এই জনসভা থেকে তিনি দিনাজপুরের মানুষের জন্যও বড় ঘোষণা দেন। শফিকুর রহমান প্রতিশ্রুতি দেন যে জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দিনাজপুরকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর করা হবে। তিনি আরও বলেন যে জামায়াত বেকার ভাতার পরিবর্তে কর্মসংস্থান তৈরিতে বিশ্বাসী কারণ বেকার ভাতা বেকারের কারখানা তৈরি করে।
নারী পুরুষ উভয়কেই যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হবে। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময় নারীদের যুদ্ধে অংশগ্রহণের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন যোগ্যতা অনুযায়ী মা বোনদের সম্মানজনক কাজের ব্যবস্থা করা হবে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে উত্তরবঙ্গকে কৃষিশিল্পের রাজধানী এবং প্রয়োজনে এখানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা হবে বলেও তিনি জানান।
শফিকুর রহমান ঐক্য জোটে আসার জন্য তিনটি শর্তের কথা উল্লেখ করেন। প্রথমত দুর্নীতি করা যাবে না দ্বিতীয়ত বিচার ব্যবস্থায় কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং তৃতীয়ত গত ৫৪ বছরের বস্তাপঁচা রাজনীতি বর্জন করতে হবে। তিনি পরিষ্কার করে বলেন যে জামায়াত বাংলাদেশকে কোনো বিদেশি ভাবধারার রাষ্ট্র নয় বরং প্রিয় গর্বের বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চায় যেখানে হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান সবাই শান্তিতে বসবাস করবে। সমাবেশে জামায়াত নেতা এটিএম আজহার ও শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগাসহ জোটের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা বক্তব্য প্রদান করেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন