রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কেরানীগঞ্জে বিএনপির ৩ শতাধিক নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ২৩, ২০২৬, ১১:১৮ পিএম

কেরানীগঞ্জে বিএনপির ৩ শতাধিক নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কোন্ডা ইউনিয়নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অঙ্গসংগঠনের তিন শতাধিক নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় কোন্ডা ইউনিয়নে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন ঢাকা-৩ আসনের জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে কেরানীগঞ্জের এই বড় ধরণের দলবদল স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। 

জামায়াতে যোগ দেওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন কোন্ডা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি ইসাকুর রহমান এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি বাহাউদ্দিনসহ স্থানীয় পর্যায়ের প্রভাবশালী একাধিক নেতা।

জামায়াতে যোগ দেওয়ার কারণ হিসেবে যুবদলের সাবেক সভাপতি ইসাকুর রহমান দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান যে বিগত ১৫ বছর আওয়ামী শাসনের সময় তিনি এবং তার পরিবার চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দলের জন্য বহু ত্যাগ স্বীকার এবং একাধিক মামলার আসামি হওয়ার পরও ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে তাকে মূল্যায়ন করা হয়নি। 

বরং আওয়ামী লীগের সাথে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে দল সাজানোর অভিযোগ তোলেন তিনি। ইসাকুর রহমানের মতে বিএনপিতে অবদানের স্বীকৃতি না পাওয়ায় এবং বৈষম্যের শিকার হওয়ায় তিনি ও তার অনুসারীরা জামায়াতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যুবদলের আরেক নেতা বাহাউদ্দিনও দলে নতুনদের অতিরিক্ত কদরের কথা উল্লেখ করে সম্মানের অভাবে দল ছাড়ার কথা জানান।কোন্ডা ইউনিয়ন বিএনপির কয়েকজন নেতা জানান যে কেরানীগঞ্জে সাবেক প্রতিমন্ত্রী আমান উল্লাহ আমান এবং যুবদল নেতা রেজাউল কবির পলের অনুসারীদের কমিটিতে জায়গা না দেওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কোন্দল চলছিল। 

তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ ঢাকা-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এই অভ্যন্তরীণ বিরোধ মেটাতে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেননি। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃত্বের এই দূরত্বের কারণেই মূলত নেতাকর্মীরা জামায়াতের দিকে ঝুঁকেছেন। দলত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে শ্রমিক দল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক একাধিক ইউনিট পর্যায়ের নেতাও রয়েছেন।

অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম নবাগতদের স্বাগত জানিয়ে বলেন যে জামায়াতে ইসলামী সবসময় নীতি ও আদর্শের রাজনীতি করে এবং এখানে কর্মীদের যোগ্য সম্মান দেওয়া হয়। তিনি কেরানীগঞ্জকে দুর্নীতি ও দখলমুক্ত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। এই বড় যোগদানের ফলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কোন্ডা এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিএনপির একটি বড় অংশ দল ছাড়ায় নির্বাচনী মাঠে ধানের শীষের প্রচারণায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সাধারণ ভোটাররা।