ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম
সচেতন নাগরিক সমাজের (সিসিএস) সদস্যসচিব ও পরিচিত নারী উদ্যোক্তা রোবাইয়াত ফাতিমা তনি জানিয়েছেন, জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল চেয়ে সংবাদ সম্মেলনে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে তা তার ব্যক্তিগত কোনো বক্তব্য নয়। রোববার এক লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তনি দাবি করেন, সংগঠনটির আহ্বায়ক নীলা ইসরাফিলের সরাসরি অনুরোধে এবং তার স্বাক্ষরিত লিখিত স্মারকলিপিটি তিনি কেবল পাঠ করেছেন।
ব্যক্তিগতভাবে কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তিনি কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি।তনি বলেন, গত শুক্রবার আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে সিসিএসের আহ্বায়ক নীলা ইসরাফিল ব্যক্তিগত কারণে উপস্থিত থাকতে পারেননি।
তার অনুপস্থিতিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে নির্ধারিত আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই তিনি স্মারকলিপিটি পাঠ করেন। ওই বক্তব্যের মূল রচয়িতা নীলা ইসরাফিল এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠন। তিনি শুধুমাত্র সংগঠনের সদস্যসচিব হিসেবে লিখিত বক্তব্যটি জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল সম্পূর্ণ পেশাদার ও সাংগঠনিক একটি দায়িত্ব পালন।
বিবৃতিতে রোবাইয়াত ফাতিমা তনি অভিযোগ করেন, সংবাদ সম্মেলনের পর থেকেই তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিভিন্ন মহল থেকে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ তথ্য প্রচার এবং পরিকল্পিতভাবে অনলাইন বুলিং করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তনি জানান, তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যেই এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যা তার জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
হত্যার হুমকি ও হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়ে তনি বলেন, যারা তাকে ও তার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি ও ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে। পাশাপাশি সাইবার আইনের আওতায় অনলাইন হয়রানি ও মানহানিকর তথ্য প্রচারকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি আরও যোগ করেন, গণতান্ত্রিক সমাজে মতপার্থক্য থাকতে পারে কিন্তু কারও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনে তনি জামায়াতে ইসলামীর আমিরের নারী নেতৃত্ব সংক্রান্ত বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করে দলটির নিবন্ধন বাতিলের দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি পাঠ করেছিলেন। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, দলটির নারী নেতৃত্ব বিরোধী অবস্থান সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী এবং আরপিও অনুযায়ী তাদের নিবন্ধন বাতিলযোগ্য। তবে বর্তমান বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এটি ছিল সংগঠনের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি লিখিত বক্তব্য মাত্র এবং এই বক্তব্যের জন্য তাকে ব্যক্তিগতভাবে হেনস্তা করা অন্যায়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন