রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

আজ ওয়াকআউটের সিদ্ধান্ত সরকারের জবাবের ওপর নির্ভর করবে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ১৫, ২০২৬, ১২:৩০ পিএম

আজ ওয়াকআউটের সিদ্ধান্ত সরকারের জবাবের ওপর নির্ভর করবে

এ টি এম আজহারুল ইসলাম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে আবারও ওয়াকআউট হতে পারে কি না তা নির্ভর করছে সরকারের দেওয়া উত্তরের ওপর। আজ রবিবার সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এই কথা জানান জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদের সভাপতিমণ্ডলীর প্যানেল সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম। 

তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে বিরোধী দল আপাতত সংসদে তাদের নির্ধারিত প্রশ্নগুলো উত্থাপন করবে এবং সরকার সেই প্রশ্নগুলোর বিপরীতে কী ধরনের জবাব দেয় তার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সংসদীয় পদক্ষেপ ও অবস্থান চূড়ান্ত করা হবে। মূলত সরকারের দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতার ওপরই তাদের সংসদীয় সহযোগিতা নির্ভর করছে।

গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির ভাষণের তীব্র বিরোধিতা করে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছিলেন। 

ওই দিন সংসদে বিশৃঙ্খলা ও হট্টগোল সৃষ্টি হয়েছিল যা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। নতুন এই সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে অধিবেশন পরিচালনার জন্য যে পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীর প্যানেল গঠন করা হয়েছে সেখানে আজহারুল ইসলামকেও রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য যে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তাকে নির্দোষ ঘোষণা করে খালাস প্রদান করে।

গত বৃহস্পতিবারের অধিবেশনে সংসদের রীতি অনুযায়ী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়। এছাড়া মাইলস্টোন স্কুলের বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতিও শোক প্রকাশ করা হয়। তবে বিতর্ক সৃষ্টি হয় যখন ওই শোকপ্রস্তাবে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর ছয়জন নেতা এবং বিএনপির একজন নেতার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিরোধীদের দাবি ছিল রাষ্ট্রপতির ভাষণের সারসংক্ষেপ এবং শোকপ্রস্তাবের কিছু অংশ রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট। আজহারুল ইসলাম জানান যে সরকারের গতানুগতিক জবাব বা দায়সারা মন্তব্য থাকলে সংসদীয় শিষ্টাচার মেনে আবারও প্রতিবাদ জানানোর পথ খোলা রয়েছে।

বর্তমান সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে এই অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। সরকারি ছুটির দিন বাদে প্রতিদিন সাধারণত বিকেল ৩টায় অধিবেশন বসার কথা থাকলেও আজ বিশেষ সূচিতে সকাল ১১টা থেকেই কার্যক্রম শুরু হয়। বিরোধী দলগুলো তাদের সংসদীয় অধিকার রক্ষায় কতটা অনড় থাকবে তা আজকের প্রশ্নোত্তর পর্বের শেষেই পরিষ্কার হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে সরকারের নমনীয়তা এবং গঠনমূলক আলোচনার ওপরই নির্ভর করছে সংসদের আগামী দিনের কার্যকারিতা ও সংসদীয় শান্তি।