রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মামলা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ৩০, ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম

মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মামলা

টাকার মানহানি মামলা দায়ের

সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য ও ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়েছেন কুষ্টিয়ার সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মুফতি আমির হামজা। তাকে ‘আপাদমস্তক নাস্তিক’ আখ্যা দেওয়ার অভিযোগে সোমবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর আমলী আদালতে ১০০ কোটি টাকার একটি মানহানি মামলা করা হয়েছে। 

অ্যাডভোকেট এস এম নাজমুল ইসলাম বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের বিচারক সুমন কুমার কর্মকার মামলার আরজি ও পেশ করা তথ্য-উপাত্ত আমলে নিয়ে আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একটি প্রতিষ্ঠিত ও সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। 

গত ২৬ মার্চ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এক সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তার দেওয়া একটি বিশেষ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মুফতি আমির হামজা তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেন। আমির হামজা তার বক্তব্যে সাবেক এই মন্ত্রীকে নাস্তিক বলে অভিহিত করেন, যা তার দীর্ঘদিনের অর্জিত ধর্মীয় ও সামাজিক ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।বাদীর আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এ ধরনের কুরুচিপূর্ণ এবং উসকানিমূলক মন্তব্যের কারণে সিরাজগঞ্জসহ সারা দেশের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। 

দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় দায়ের করা এই মামলায় আসামির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আরজি জানানো হয়েছে। এদিকে সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরাও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। স্থানীয় আইনজীবী মহলের দাবি, একজন সজ্জন রাজনীতিক ও সাবেক প্রভাবশালী মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এ ধরনের নির্লজ্জ ও মনগড়া মিথ্যাচার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ আইনি প্রতিকার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

মুফতি আমির হামজার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। সংক্ষুব্ধ পক্ষ মনে করছে, এটি পরিকল্পিতভাবে একজন ব্যক্তির সম্মানহানির চেষ্টা। আদালত পরবর্তী কী আদেশ দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা।