এপ্রিল ৩, ২০২৬, ১১:০১ পিএম
অনলাইনে ক্লাস নেওয়া হলে শিশুদের স্বাভাবিক মেধার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে এবং এতে মেধার অপমৃত্যু ঘটবে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার বিকেলে ঢাকা জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের নাফিস কনভেনশন সেন্টারে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা এবং দেশের চলমান জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন যে বর্তমানে শিশুরা এমনিতেই নানা ধরণের ডিজিটাল ডিভাইসে আসক্ত হয়ে পড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে যদি তাদের স্কুল থেকে দূরে রেখে হাতে মোবাইল বা কম্পিউটার তুলে দেওয়া হয়, তবে তা তাদের ভবিষ্যতের জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে। তাঁর মতে একটি শিশু যখন স্কুলে যায়, তখন সে সমবয়সীদের সঙ্গ পায় এবং সামাজিকীকরণের সুযোগ পায়। কিন্তু ঘরে বসে একা ক্লাস করার ফলে শিশুরা চপলতা ও চঞ্চলতা হারিয়ে ফেলছে যা তাদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
জামায়াত আমির আরও বলেন যে স্কুলে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে রাখেন যা ঘরে বসে সম্ভব নয়। অনেক ক্ষেত্রে শিশুরা ডিভাইস সামনে রেখে পড়াশোনার বদলে খেলায় মেতে ওঠে যা দেখার কেউ থাকে না। শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যতের স্বার্থে এই ধরণের অনলাইন নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে সরাসরি শ্রেণি কার্যক্রমে জোর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন যে সংসদীয় পর্যায়ে যখন জ্বালানি সংকট নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, তখন সরকারের পক্ষ থেকে সমস্যাটি অস্বীকার করা হয়। সংসদে সরকারের দেওয়া বিবৃতিগুলোকে বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে তিনি বলেন যে দেশ তেলের ওপর ভাসছে এমন দাবি করা হলেও বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তেলের সংকটে মোটরসাইকেল ও গাড়িচালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাম্পের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।
তিনি অভিযোগ করেন যে বাজারে জ্বালানির কৃত্রিম সংকট তৈরি করে রাখা হয়েছে। সাধারণ মানুষ পাম্পে তেল না পেলেও কালোবাজারে ৩০০ টাকা লিটার দরে তেল বিক্রি হচ্ছে। ড্রাম ভর্তি করে প্রভাবশালীরা বিভিন্ন স্থানে তেল মজুত করে রাখছে বলে তিনি দাবি করেন। ডা. শফিকুর রহমান সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে কোনো লুকুচুরি না করে বাস্তব অবস্থা জনগণের সামনে তুলে ধরা উচিত। সংকট নিরসনে বিরোধী দলগুলো সহযোগিতা করতে চাইলেও সরকার অস্পষ্টতা বজায় রাখছে যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন