রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

দেশে তেলের সংকট নেই, তাহলে মানুষ কেন হাহাকার করছে? শফিকুর রহমান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২০, ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম

দেশে তেলের সংকট নেই, তাহলে মানুষ কেন হাহাকার করছে? শফিকুর রহমান

সংসদে বক্তব্য রাখছেন বিরোধীদলীয় নেতা

দেশের বর্তমান জ্বালানি ও গ্যাস সংকটকে এই মুহূর্তের সবচেয়ে গুরুতর সমস্যা হিসেবে অভিহিত করে জাতীয় সংসদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান। সোমবার জাতীয় সংসদে এই সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য একটি মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপনকালে তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন 

একদিকে সংসদে দাবি করা হচ্ছে তেলের কোনো অভাব নেই, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ তেলের জন্য রাস্তায় হাহাকার করছে। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতার এই বক্তব্য উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

বক্তব্যের শুরুতেই ড. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন যে, দেশের সাধারণ মানুষ প্রত্যাশা করে তাদের দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলো নিয়ে এই মহান সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হবে। বর্তমানে জ্বালানি সংকট দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। 

তিনি আক্ষেপ করে বলেন যে, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি সেকেন্ড ব্যয় হয়, অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুটি নিয়ে আলোচনার সুযোগ না পাওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তিনি ব্যক্তিগতভাবে মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং দেখেছেন যে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে কতটা অসন্তোষ ও ভোগান্তি বিরাজ করছে।সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যান ও বিবৃতির তীব্র সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে যে ধরনের আশ্বাসের কথা বলা হচ্ছে, তার সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির কোনো মিল তিনি খুঁজে পাননি। 

তিনি একটি সুনির্দিষ্ট উদাহরণ টেনে বলেন যে, যদি সংকট না-ই থাকবে তবে কেন হাইকোর্টের মতো সংবেদনশীল জায়গাতেও ভার্চুয়ালি কাজ করার সিদ্ধান্ত নিতে হলো। সংকট আছে বলেই এ ধরনের অস্বাভাবিক পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। তিনি মনে করেন, সত্য গোপন করে জনগণকে বিভ্রান্ত না করে বরং বাস্তব সমস্যা স্বীকার করে সমাধানের পথ খোঁজা উচিত।যদিও ড. শফিকুর রহমান স্বীকার করেছেন যে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি এবং যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে, তবুও তিনি অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে দায়ী করেন। 

তিনি বলেন যে, এই সংকট সমাধানের জন্য বিরোধী দল সরকারের সাথে গঠনমূলকভাবে কাজ করতে চায় এবং প্রয়োজনীয় মতামত দিতে আগ্রহী। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি যেহেতু জ্বালানি বা শক্তির ওপর সরাসরি নির্ভরশীল, তাই এই বিষয়টি দায়সারাভাবে নিষ্পত্তি না করে সংসদ নেতার উপস্থিতিতে বিস্তারিত আলোচনার জন্য বিশেষ সময় বরাদ্দের দাবি জানান তিনি। জনগণের দুর্ভোগের সময় তাদের কথা সংসদে বলতে না পারলে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়বদ্ধতা পালন সম্ভব নয় বলেও তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন।