রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মনিরা-নুসরাতের মনোনয়ন ইস্যুতে ইসিকে সারজিসের হুঁশিয়ারি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২২, ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম

মনিরা-নুসরাতের মনোনয়ন ইস্যুতে ইসিকে সারজিসের হুঁশিয়ারি

ইসিকে সারজিসের হুঁশিয়ারি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই নেত্রীর মনোনয়ন ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম। বর্তমান নির্বাচন কমিশনারদের আওয়ামী আমলের কর্মকর্তাদের চেয়েও ভয়াবহ পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। 

বুধবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ক্ষোভ উগরে দেন।ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ১১ দলীয় জোটের শরীক দল এনসিপি থেকে মনোনয়নপ্রাপ্ত মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাছাই প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। 

এছাড়া দলটির আরেক নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ১৯ মিনিট দেরি করে মনোনয়ন ফরম জমা দিতে যাওয়ায় কমিশন তা গ্রহণ করেনি। ইসির এই ধরনের আচরণকে পক্ষপাতদুষ্ট ও অন্যায় হিসেবে দেখছেন সারজিস আলম।

ফেসবুক পোস্টে সারজিস আলম অভিযোগ করেন যে, বর্তমান নির্বাচন কমিশন তাদের দলীয় প্রভুদের সন্তুষ্ট করতে ব্যস্ত এবং তাদের অধিকাংশ সিদ্ধান্ত গুলশান থেকে আসছে। তিনি লেখেন, মনিরা শারমিন একসময় সরকারি চাকরি করতেন এবং নুসরাত তাবাসসুম ১৯ মিনিট দেরিতে এসেছেন—কেবল এই ঠুনকো অজুহাতে তাদের মনোনয়ন বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। অথচ সর্বশেষ দুটি আসনের উপনির্বাচনে যখন প্রকাশ্যে ভোট চুরি ও ব্যালট সিল মারার ঘটনা ঘটল, তখন এই কমিশন মুখে কুলুপ এঁটে বসে ছিল।

নির্বাচন কমিশনারদের কঠোর ভাষায় সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, বর্তমান কমিশনাররা যেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনারের গলায় জুতার মালা পরা ছবিটা সবসময় তাদের বেডরুমে টাঙিয়ে রাখেন। তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে ভবিষ্যতে এর চেয়েও ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই ধরনের ‍‍`দলদাস‍‍` মানসিকতা বজায় রাখলে জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না বলেও পোস্টে মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওপর সকল মহলের তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন নিয়ে সৃষ্ট এই বিতর্ক রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে। সারজিস আলমের এই বক্তব্যের পর নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।