রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

প্রার্থিতা ফেরাতে ইসিতে মনিরার আপিল, শুনানি সোমবার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম

প্রার্থিতা ফেরাতে ইসিতে মনিরার আপিল, শুনানি সোমবার

ইসিতে মনিরার আপিল আবেদন

ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনে আবেদন জমা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মনিরা শারমিন। একই সঙ্গে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাধবী মারমার বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন ছাত্রদল নেত্রী চন্দ্রা চাকমা। 

রোববার আপিল আবেদনের শেষ দিনে নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য জমা পড়া ৫০টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৪৯টিই বৈধ বলে ঘোষণা করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এই তালিকায় বিএনপি জোটের ৩৬ জন, জামায়াতে ইসলামীর ১২ জন এবং স্বতন্ত্র জোটের একজন প্রার্থী রয়েছেন। 

তবে সরকারি চাকরি থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় তিন বছর পার না হওয়ায় জামায়াত সমর্থিত জোটের প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছিল।গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের বিধি অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি সরকারি চাকরি থেকে অবসর বা পদত্যাগের তিন বছর পার না হওয়া পর্যন্ত সংসদ সদস্য পদের জন্য যোগ্য বিবেচিত হন না। মনিরা শারমিন ২০২৩ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে যোগ দিয়েছিলেন এবং মাত্র দুই বছর দায়িত্ব পালন শেষে গত বছরের ডিসেম্বরে চাকরি ছাড়েন। 

এরপর ২০২৫ সালের মার্চ মাসে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আইনি এই জটিলতার কারণেই বাছাইয়ের সময় তাঁর মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায়। তবে নিজের প্রার্থিতা ফিরে পেতে তিনি আশাবাদী। সংবাদকর্মীদের তিনি জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় তাঁর করা আপিল আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।এদিকে সংরক্ষিত আসনের আরেক প্রার্থী বিএনপির মাধবী মারমার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক চন্দ্রা চাকমা। তাঁর দাবি, মাধবী মারমা বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ না করেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, যা প্রচলিত আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। 

চন্দ্রা চাকমার মতে, পার্বত্য জেলা পরিষদের আইন অনুযায়ী কোনো সদস্যকে পদত্যাগ করতে হলে চেয়ারম্যানের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র জমা দিতে হয়, যা মাধবী মারমা করেননি। ফলে তাঁর প্রার্থিতা অবৈধ বলে দাবি করেছেন এই ছাত্রদল নেত্রী।অবশ্য এমন অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন মাধবী মারমা। তিনি পাল্টা দাবি করেছেন যে, তাঁর পদত্যাগপত্র ইতোমধ্যেই অনুমোদিত হয়েছে এবং গত সপ্তাহেই তিনি তা সম্পন্ন করেছেন। 

আইনি সকল প্রক্রিয়া মেনেই তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বলে তাঁর ভাষ্য। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৭ ও ২৮ এপ্রিল এসব আপিল নিষ্পত্তি করা হবে। এরপর ২৯ এপ্রিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় এবং ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। আগামী ১২ মে সংরক্ষিত নারী আসনের এই ভোট গ্রহণের কথা রয়েছে। তবে সাধারণত দলগত মনোনয়নের ভিত্তিতে এই আসনের প্রার্থীরা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে থাকেন।