রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: মাহদী আমিন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১, ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম

শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: মাহদী আমিন

মাহদী আমিন

আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে শ্রমিকের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন বা আইএলও-র ৩৯টি কনভেনশন ও একটি প্রোটোকল অনুস্বাক্ষর করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সময়মতো বেতন-ভাতা প্রদান, মজুরি পর্যালোচনা এবং নারী-পুরুষের সমান মজুরি নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

শুক্রবার (১ মে) মহান মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। মাহদী আমিন বর্তমানে প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন।

বক্তব্যের শুরুতেই মাহদী আমিন ১৮৮৬ সালে শিকাগো শহরের হ্যা-মার্কেটের ঘটনায় জীবন উৎসর্গকারী শ্রমিকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিশ্বাস করতেন শ্রমিকের হাতই উন্নয়নের চাবিকাঠি। 

বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তাঁর নেওয়া পদক্ষেপগুলো দেশের অর্থনীতির মজবুত ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা জানান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষায় ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার সবসময় শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। অতীতেও শ্রম আইন সংস্কার, মজুরি কমিশন গঠন এবং গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা হয়েছে। নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি এবং শ্রমিকের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বাস করেন শ্রমজীবী মানুষই দেশের অগ্রযাত্রার প্রধান চালিকাশক্তি। শ্রমিকদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেই একটি সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার শ্রমবান্ধব নীতি ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চায়।

অনুষ্ঠানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংসদে জনগণের সমস্যা নিয়ে যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেছে তা ক্ষমতারই প্রতীক। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক ভিন্নতা থাকলেও দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের কল্যাণে সম্মিলিত প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই। যুবসমাজ ও নারীদের ক্ষমতায়নের পাশাপাশি শ্রমিকদের দক্ষতাবৃদ্ধিতে সরকার নতুন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, আইএলও-র কান্ট্রি ডিরেক্টর এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও শিল্পোদ্যোক্তারা।