মে ২১, ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী মনিরা শারমিন। বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, অপরাধী পুলিশের কাছে অপরাধ স্বীকার করার পরও সাত দিনের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হয়েছে।
তার মতে, অপরাধীর দায় স্বীকার ও জবানবন্দিই যেখানে মামলার অধিকাংশ দিক পরিষ্কার করে দিয়েছে, সেখানে নতুন করে দীর্ঘ তদন্তের নামে কালক্ষেপণ বিচারের প্রতি মানুষের আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে।বিচারহীনতার এই সংস্কৃতিকেই দেশে ধর্ষণ ও সহিংস অপরাধ গাণিতিক হারে বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে দায়ী করছেন তিনি।
মনিরা শারমিন তার পোস্টে ২০১৮ সালের সুবর্ণচরের সংঘবদ্ধ ধর্ষণের উদাহরণ টেনে বলেন, বছরের পর বছর পার হলেও অনেক আলোচিত মামলার চূড়ান্ত রায় কার্যকর হয় না, যা অপরাধীদের মনে কোনো ভয় সৃষ্টি করে না।
তিনি আরও বলেন, ঈদের ছুটির অজুহাতে তদন্ত দীর্ঘায়িত হলে রামিসার বাবার মতো অনেক পরিবারই ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারে। অপরাধীকে জনসম্মুখে ফাঁসির আদেশ ও দ্রুত বিচার কার্যকর করার দাবি জানিয়ে তিনি প্রশ্ন রাখেন, অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত না হলে সমাজ কি অপরাধমুক্ত হওয়া সম্ভব?ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার পরও বিচার কার্যক্রমে দেরি হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে তিনি মনে করেন।
রামিসা হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই পারে সম্ভাব্য অপরাধীদের নিবৃত্ত করতে। কেবল বিচারের রায় হওয়া যথেষ্ট নয়, বরং তা জনসম্মুখে কার্যকর করে একটি শক্তিশালী দৃষ্টান্ত স্থাপনের দাবি জানান তিনি। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে দেশজুড়ে যে বিচার দাবির ঝড় উঠেছে, তা আমলে নিয়ে প্রশাসন দ্রুততম সময়ে বিচার নিশ্চিত করবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন দেশের সচেতন নাগরিকরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন