জুন ১৪, ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে চাঞ্চল্যকর শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজের জঘন্য অপরাধ পুরোপুরি স্বীকার করে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। আজ রোববার ১৪ জুন ২০২৬ তারিখে হাইকোর্টের একটি বিশেষ বেঞ্চে শুনানির সময় নিজের দায় স্বীকার করে তিনি জানান যে তিনি একটি বিরাট ভুল করেছেন এবং আদালতের কাছে প্রাণভিক্ষা চান।
এর আগে বিগত ১১ জুন কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত এই আসামি এবং তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তার যৌথভাবে হাইকোর্টে নিয়মিত জেল আপিল দায়ের করেছিলেন।উচ্চ আদালত আজ আসামিদের দায়ের করা সেই জেল আপিলটি আনুষ্ঠানিক শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন।শুনানির সময় জেল আপিলে দেওয়া বিশেষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই প্রধান আসামি দাবি করেন যে তীব্র আর্থিক অনটন, চরম পারিবারিক অশান্তি এবং অতিরিক্ত মাদকাসক্ত থাকার কারণেই তাঁর অবচেতন মনে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে গেছে।
নিজের একমাত্র নাবালক সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং পরিবারের চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে এই অপরাধের জন্য তিনি আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি জানান যে তিনি মূলত একটি স্থানীয় অটোরিকশা গ্যারেজে মিস্ত্রির কাজ করতেন এবং নিয়মিত ইয়াবাসহ বিভিন্ন মারাত্মক মাদকে আসক্ত ছিলেন। এই নেশাগ্রস্ত অবস্থার কারণে তাঁর পরিবারে প্রায় প্রতিদিনই চরম ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত এবং ইতিপূর্বে তিনি অন্য কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেন।
মামলার ভিকটিম বা নিহত শিশুর সঙ্গে যে অনাকাঙ্ক্ষিত নৃশংসতা ঘটেছে তা সম্পূর্ণ মাদকাসক্ত ও নেশাগ্রস্ত অবস্থায় হয়েছে বলে তিনি জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন। তাঁর আর্থিক অভাব ও মানসিক অশান্তির কারণে ঘটনাটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ও অবচেতনভাবে সংঘটিত হয়েছে এবং কীভাবে যে পুরো বিষয়টি ঘটে গেছে তা তিনি নিজেও তখন ঠিকমতো বুঝতে পারেননি বলে আদালতকে জানান। তবে প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজের দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেও তাঁর স্ত্রী ও একই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামি স্বপ্না আক্তার নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেছেন। তিনি জেল আপিলে নিজের খালাস চেয়েছেন এবং দাবি করেছেন যে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে তাঁর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল না।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন