সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৫, ০৩:৫৯ পিএম
গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নির্বাচনী প্রস্তুতি থেকে শুরু করে দলীয় কার্যক্রমে দলটি এখন সরগরম। তবে দলটিকে দীর্ঘদিন ধরেই মুক্তিযুদ্ধ ইস্যু, ধর্মীয় ইস্যুসহ নানা সমালোচনার শিকার হতে হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে, দলটির কার্যক্রমে একটি বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ সংস্কারের ছাপ দেখা যাচ্ছে।এক বছর ধরে জামায়াতে ইসলামীর কার্যক্রম গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মঞ্চের সাজসজ্জা, দলীয় সভা-সমাবেশের পোস্টার, ফেস্টুন, ব্যানার—সর্বত্রই লাল-সবুজের রঙের ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে। সম্প্রতি তারা জাতীয় পতাকার আদলে একটি লোগোও উন্মোচন করেছে।
দলীয় কার্যক্রমে জাতীয় পতাকার এমন ব্যবহারকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দলের দেশপ্রেম বোঝানোর কৌশল এবং মুক্তিযুদ্ধ ইস্যুতে দীর্ঘদিনের বিতর্ক অবসানের চেষ্টা বলে মনে করছেন।দলীয় সূত্রে জানা যায়, জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক অবস্থানে বেশ কিছু পরিবর্তন আসছে। এর মধ্যে রয়েছে:জাতীয় পতাকার আদলে লোগো: এটি প্রতীকীভাবে দলের দেশপ্রেম ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা।
৭১ প্রশ্নে ক্ষমা: দলের ভেতরে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে, যা মুক্তিযুদ্ধ প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান জানানোর বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।নারী প্রার্থীর মনোনয়ন: জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে শিথিলতা আনা হচ্ছে।দলের কার্যক্রমে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি: আধুনিক রাজনৈতিক পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নারীদের উপস্থিতি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
নির্বাচনী কৌশল: জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণার ক্ষেত্রেও নতুন কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে।দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও দক্ষিণাঞ্চলের (সাংগঠনিক) তত্ত্বাবধায়ক মোবারক হোসাইন এ বিষয়ে বলেন, "যুগের পরিবর্তন ও রাজনীতির চাহিদা অনুযায়ী নীতি-নির্ধারণে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এক্ষেত্রে কোনো বিষয়গুলো মৌলিক, কোনগুলো অভিযোজিত হবে, সেগুলো আলাদা করে দেখা হয়।
আমরা ইসলামের মৌলিক বিষয় ঠিক রেখে সামাজিক অবস্থা অনুযায়ী পরিবর্তন আনছি। মৌলিক কোনো বিষয় আমাদের অ্যাভয়েড করার সুযোগ নেই।"গত বছর প্রকাশ্যে দলীয় কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই জামায়াতে ইসলামী নতুন করে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী বিএনপি থেকেও দলটি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার বিষয়ে সমালোচিত হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে জামায়াতের ভেতরেও ৭১ প্রশ্নে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে জয়ের পর ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারা রায়েরবাজারে শহীদ বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে গিয়ে দোয়া ও মোনাজাত করেন, যা দলের অবস্থান জানানোর গুরুত্ব বাড়িয়ে দেয়।
যদিও দলের নির্বাহী পরিষদে এই বিষয়ে মতানৈক্য রয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের অন্যতম সদস্য ও কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, "৭১ বিষয় নিয়ে আমাদের আলোচনা আছে। কোনো মৌলিক ইস্যুতে নির্বাহী পরিষদে সিদ্ধান্ত হলেও সেটা আমাদের মজলিশে শুরা পরিষদ থেকে পাস করে নিতে হয়। মৌলিক বিষয়ে জামায়াতের সবাইকে একমত হতে হয়। এ বিষয় আলোচনাধীন।"
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের আরেক সদস্য বলেন, "একটা দলে নানা মত থাকবে। সবাইকে একমত হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ৭১ ইস্যুটা দিয়ে জামায়াত ও শিবিরকে ঘায়েল করার চেষ্টা হচ্ছে। যদিও দেশের মানুষ এখন এই ট্যাগিংয়ের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তাই এই ইস্যু সারাজীবন থাকবে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া জটিল।"




দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন