অক্টোবর ২, ২০২৫, ০৫:১৩ পিএম
গাজামুখী ত্রাণবাহী জাহাজ আটক করার ঘটনায় দখলদার ইসরায়েলের ন্যক্কারজনক ভূমিকার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই ঘটনার নিন্দা জানান এবং ত্রাণবাহী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা বিধানের আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে তিনি গাজার বর্তমান ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজায় প্রায় ৭০ হাজার নিরীহ মানুষ শহীদ হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা সতর্ক করেছে যে, গাজায় ইতোমধ্যেই দুর্ভিক্ষ ও রোগব্যাধি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ পৌঁছাতে না পারলে হাজার হাজার নারী-শিশুর মৃত্যু অনিবার্য হয়ে পড়বে।
অধ্যাপক গোলাম পরওয়ারের বক্তব্য অনুযায়ী, ইসরায়েল ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র ১৩টি ত্রাণবাহী নৌযান এবং বহু মানবাধিকার কর্মীকে আটক করেছে। অথচ এই নৌযানগুলো গাজাবাসীর জন্য খাদ্য, পানি ও ওষুধ বহন করছিল। তিনি ইসরায়েলের এই অমানবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী মানবিক সহায়তা গন্তব্যে পৌঁছাতে কাউকে বিরত রাখা যায় না। দখলদার ইসরায়েল নৌযান ও মানবাধিকার কর্মীদের আটক করে মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্য অপরাধ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইতোমধ্যেই এ ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে, এমনকি তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ইসরায়েলের এই কর্মকাণ্ডকে 'সন্ত্রাসী হামলা' আখ্যা দিয়েছে।
জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেলের মতে, মূলত দখলদার ইসরায়েল ফিলিস্তিনে জাতিগত নিধনযজ্ঞ চালাচ্ছে। আন্তর্জাতিক পানিসীমায় ত্রাণবাহী জাহাজে বাধা দিয়ে তারা চরম অপরাধ করেছে, যা মানবতার বিরুদ্ধে এক ঘৃণ্যতম অপরাধ।
তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ক্ষুধার্ত গাজাবাসীর প্রাণ বাঁচাতে ত্রাণবাহী জাহাজগুলো যাতে নিরাপদে গাজায় পৌঁছতে পারে, সেজন্য ইসরায়েলের ওপর অবিলম্বে চাপ সৃষ্টি করতে হবে। একইসাথে আটক মানবাধিকার কর্মীদের নিরাপত্তা ও নিঃশর্ত মুক্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন