অক্টোবর ২২, ২০২৫, ০৭:৪৪ পিএম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংলাপ অব্যাহত রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বুধবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বসে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এই বৈঠকে জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে গঠিত দলটি দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের অন্যতম প্রধান একটি দাবি উত্থাপন করেছে।
এনসিপি'র পক্ষ থেকে আসন্ন নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করার স্বার্থে বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি) অবিলম্বে পুনর্গঠনের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। এনসিপি মনে করে, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে গঠিত এই কমিশনের অধীনে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়।বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পৌঁছায়।
প্রতিনিধিদলে নাহিদ ইসলাম ছাড়াও ছিলেন দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বৈঠকের আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশন নিয়ে আমাদের গভীর উদ্বেগ জানিয়েছি। প্রধান উপদেষ্টাকে আমরা বলেছি যে, বর্তমান নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয়, স্বচ্ছ নয়।
’ নাহিদ ইসলাম কঠোর ভাষায় অভিযোগ করে বলেন, একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের যেভাবে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার কথা ছিল, সেটি তারা করছে না। এনসিপির পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টাকে জানানো হয়েছে যে, ‘কিছু দলের প্রতি নির্বাচন কমিশনের সুস্পষ্ট পক্ষপাত রয়েছে, এবং অন্য কিছু দলের প্রতি তারা বিমাতাসুলভ আচরণ করছে।’ এনসিপি নেতারা এই পক্ষপাতমূলক আচরণের সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয় ও উদাহরণও প্রধান উপদেষ্টার কাছে বৈঠকে তুলে ধরেছেন বলে নাহিদ ইসলাম জানান।
জুলাই বিপ্লবের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে এই দাবিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, বর্তমান নির্বাচন কমিশনটি পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিযুক্ত হয়েছিল, যা নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে গঠিত এনসিপিসহ বিপ্লবী দলগুলোর মধ্যে শুরু থেকেই তীব্র আপত্তি ও অনাস্থা ছিল। গত ১৭ অক্টোবর জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানেও এনসিপি স্বাক্ষর করা থেকে বিরত ছিল।
সনদ বাস্তবায়নের আইনি নিশ্চয়তা পাওয়ার শর্ত দিয়েছিল তারা। এরই ধারাবাহিকতায়, একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের পূর্বশর্ত হিসেবে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের এই দাবিকে এনসিপি তাদের অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে সামনে আনলো। এই দাবি আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মূলত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে সৃষ্ট মতপার্থক্য নিরসনের লক্ষ্যেই এই ধারাবাহিক আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন। এনসিপি'র এই বৈঠকের আগে গতকাল মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলও প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করে।
বিএনপি সেই বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের’ পূর্ণাঙ্গ ভূমিকা পালনের এবং প্রশাসন থেকে ‘দলীয় লোকজনকে’ সরিয়ে ফেলার দাবি জানিয়েছিল। আজ এনসিপির বৈঠকের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীরও একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকের কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে সম্পূর্ণ দলীয় প্রভাবমুক্ত করাই যে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রধান চ্যালেঞ্জ, তা রাজনৈতিক দলগুলোর ধারাবাহিক এই সংলাপগুলোতে এবং এনসিপির আজকের এই সুস্পষ্ট দাবিতে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠলো।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন