রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বাংলাদেশে সৌদি আরবের একদিন পর ঈদ পালনের নেপথ্য কারণ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ১৯, ২০২৬, ০১:৪৩ পিএম

বাংলাদেশে সৌদি আরবের একদিন পর ঈদ পালনের নেপথ্য কারণ

চাঁদ দেখার নিয়ম

মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা ঘিরে প্রতিবছরই একটি সাধারণ প্রশ্ন সামনে আসে—কেন সৌদি আরবে ঈদ ঘোষণার একদিন পর বাংলাদেশে ঈদ পালিত হয়? এই পার্থক্যের পেছনে মূলত ভৌগোলিক অবস্থান, চাঁদ দেখার পদ্ধতি এবং শরিয়াহভিত্তিক জাতীয় সিদ্ধান্তের সমন্বয় কাজ করে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের তথ্যমতে, নতুন চাঁদ দেখার জন্য সূর্য এবং চাঁদের মধ্যে অন্তত ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি কোণের প্রয়োজন হয়। 

পৃথিবীর ঘূর্ণন গতির কারণে এই কোণ তৈরি হতে ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা সময় লেগে যায়, যা সৌর সময়ের হিসেবে প্রায় একদিনের সমান। সৌর সময়ের এই বড় পার্থক্যের কারণেই মূলত চান্দ্র মাসের গণনায় হেরফের দেখা দেয়।

ভৌগোলিক দিক থেকে সৌদি আরব বাংলাদেশের পশ্চিমে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে নতুন চাঁদ আগে দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। অন্যদিকে বাংলাদেশ পূর্ব দিকে হওয়ায় একই দিনে আমাদের আকাশে চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা জ্যোতির্বিজ্ঞানগতভাবেই কম। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর নির্দেশনা হলো চাঁদ দেখে রোজা শুরু এবং শেষ করা। 

এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করেই প্রতিটি অঞ্চল নিজস্ব আকাশে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ঈদের তারিখ নির্ধারণ করে। বাংলাদেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে গঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তবেই চূড়ান্ত শরয়ি সিদ্ধান্ত ও ঈদের ঘোষণা প্রদান করে।অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে যে ইসলামের পবিত্র ভূমি সৌদি আরবের ঘোষণা কেন বাংলাদেশ সরাসরি অনুসরণ করে না।

 

তবে অধিকাংশ ইসলামি ফিকহ বিশারদ ও আলেমের মতে, প্রত্যেক অঞ্চলের আলাদা চাঁদ দেখার ভিত্তিতেই ধর্মীয় উৎসব পালন করা অধিকতর সংগত। কারণ এক দিগন্তে চাঁদ দেখা গেলেও অন্য দিগন্তে তা দৃশ্যমান নাও হতে পারে। যদিও অনেক সময় আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উভয় দেশেই একই দিনে চাঁদ দেখা যায় এবং তখন একই দিনে ঈদ পালিত হয়। মূলত সকল মুসলিম দেশ একই চন্দ্রদিবসে পরিচালিত হলেও পৃথিবীর টাইম জোন বা সময়ের পার্থক্যের কারণে সৌর ও চন্দ্র সময়ের এই আপাত বিভাজন পরিলক্ষিত হয়।