রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

শাওয়ালের ৬ রোজা রাখার সঠিক নিয়ম ও ফজিলত জানুন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ২৪, ২০২৬, ০১:১৮ পিএম

শাওয়ালের ৬ রোজা রাখার সঠিক নিয়ম ও ফজিলত জানুন

শাওয়ালের ফজিলত ও নিয়ম

পবিত্র রমজান মাস শেষ হওয়ার পর শাওয়াল মাসে ছয়টি নফল রোজা রাখা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি আমল। ইসলামি শরিয়তে এই রোজা রাখা মোস্তাহাব হিসেবে গণ্য করা হয়। যারা রমজানের পুরো মাস সিয়াম পালন করেছেন, তারা যদি শাওয়াল মাসে আরও ছয়টি রোজা রাখেন তবে তারা সারাবছর রোজা রাখার সমতুল্য সওয়াব লাভ করবেন। 

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিশুদ্ধ হাদিস থেকে এই আমলের বিশেষ গুরুত্ব প্রমাণিত হয়েছে। সহিহ মুসলিমের এক বর্ণনা অনুযায়ী হজরত আবু আইয়ূব আনছারী (রা.) বলেন যে মহানবী (সা.) ঘোষণা করেছেন, যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল এবং এরপর শাওয়ালে আরও ছয়টি রোজা রাখল, এটি তার জন্য সারাবছর রোজা রাখার সমান হবে।

এই সওয়াবের গাণিতিক ব্যাখ্যা অন্য একটি হাদিসে অত্যন্ত চমৎকারভাবে স্পষ্ট করা হয়েছে। হজরত ছাওবান (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন যে রমজান মাসের রোজা রাখা দশ মাস রোজা রাখার সমান এবং শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখা দুই মাস রোজা রাখার সমান। 

আল্লাহ তাআলা নেক কাজের সওয়াব দশগুণ বৃদ্ধি করে দেন বলেই এই হিসাব অনুযায়ী রমজান ও শাওয়ালের এই ছয়টি রোজা মিলে মোট বারো মাস বা এক বছরের রোজার সমান মর্যাদা লাভ করা সম্ভব হয়। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য ইবাদতের এক বিশেষ রহমত এবং বড় সুযোগ।শাওয়ালের এই ছয়টি রোজা রাখার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ বা সময় নির্ধারিত নেই। 

ঈদুল ফিতরের দিনটি বাদ দিয়ে শাওয়াল মাসের প্রথম, মধ্য বা শেষ ভাগের যেকোনো সময় এই রোজা রাখা যায়। এগুলো একাধারে বা বিরতি দিয়েও পালন করা সম্ভব। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যাদের অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে রমজানের রোজা কাজা হয়েছে, তাদের উচিত আগে সেই ফরজ রোজাগুলো পূর্ণ করা। কাজা রোজা আদায় করার পর শাওয়ালের নফল রোজা রাখা উত্তম বলে মনে করেন আলেমগণ। এতে ইবাদতের পূর্ণতা ও শৃঙ্খলার বহিঃপ্রকাশ ঘটে।