জুলাই ১১, ২০২৬, ১২:৩১ এএম
কোনো ঘরে নবজাতকের প্রথম কান্না আনন্দের উচ্ছ্বাস হয়ে ধ্বনিত হয়, আবার কোনো ঘরে সেই একই নিষ্পাপ কান্না অকারণ বিষাদের ছায়া ডেকে আনে, শুধু সে কন্যা বলে। সময়ের চাকা অনেক দূর এগিয়েছে, কিন্তু বহু মানুষের হৃদয় আজও জাহিলিয়াতের সেই অন্ধকার মানসিকতা থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেনি। আজও কোথাও কন্যাসন্তানের জন্মে মায়ের চোখ ভিজে ওঠে অশ্রুতে, সহ্য করতে হয় তিরস্কার কিংবা অবহেলা। যেন একটি নিষ্পাপ শিশুর একমাত্র অপরাধ—সে কন্যা হয়ে পৃথিবীতে এসেছে।
অথচ ছেলে হোক কিংবা মেয়ে, প্রতিটি সন্তানই আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত এক মহামূল্যবান আমানত।পিতা-মাতার জন্য রহমত এবং জান্নাত লাভের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে কন্যা সন্তানদের গণ্য করা হয়। আল্লাহর পক্ষ থেকে কন্যাসন্তান প্রাপ্তি কোনো দুর্ভাগ্যের সংবাদ নয়, বরং এটি এক বিশেষ নিয়ামত। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দান করেন, যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন। বৈজ্ঞানিকভাবেও প্রমাণিত যে সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে মায়ের কোনো ভূমিকা নেই। তাই কন্যা সন্তানকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার মানসিকতা পরিহার করা প্রয়োজন।
ইসলাম-পূর্ব আরব সমাজে কন্যা সন্তানকে দুর্ভাগ্যের প্রতীক মনে করা হতো। রাসুলুল্লাহ সা. এই মানসিকতার কঠোর সমালোচনা করেছিলেন এবং কন্যাসন্তানদের প্রতি গভীর স্নেহ প্রদর্শন করেছিলেন। তিনি প্রিয় কন্যা ফাতিমা রা.-এর প্রতি যে অকৃত্রিম ভালোবাসা দেখিয়েছিলেন, তা আজো আমাদের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। রাসুল সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি দুটি কন্যাসন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত লালন-পালন করবে, কিয়ামতের দিন সে আমার সঙ্গে থাকবে। এমন অসংখ্য হাদিসে কন্যা সন্তানের প্রতি উত্তম আচরণের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।
কন্যা সন্তানও মানুষের জন্য এক ধরনের পরীক্ষা, যারা সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবে, তাদের জন্য রয়েছে বিশেষ পুরস্কার। রাসুল সা. বলেছেন, যাকে কন্যাসন্তান দিয়ে পরীক্ষা করা হয়, আর সে তাদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করে, সেই কন্যারা তার জন্য জাহান্নাম থেকে রক্ষাকবচ হবে। কেবল কন্যাসন্তানই নয়, বোনদের লালন-পালনের ক্ষেত্রেও একই সুসংবাদ রয়েছে। মহান আল্লাহ আমাদের জাহেলি চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে এসে কন্যা ও বোনদের প্রতি সদাচরণের তাওফিক দান করুন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন