জুলাই ২৪, ২০২৬, ১২:১০ পিএম
ইসলামে হালাল উপার্জনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হালাল জীবিকা মানুষের জীবনে বরকত, শান্তি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি বয়ে আনে, আর অবৈধ উপার্জন মানুষের ইবাদত, দোয়া এবং পরকালের সফলতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।কঠোর পরিশ্রমই কেবল উপার্জন হালাল করতে পারে না।
উপার্জনের পথও সম্পূর্ণ শরিয়তসম্মত হওয়া জরুরি। দুর্নীতি, ঘুষ, প্রতারণা, ভেজাল মেশানো, ওজনে কম দেওয়া কিংবা অন্যের অধিকার হরণ করে অর্জিত অর্থ ইসলামে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পবিত্র ইসলামি শিক্ষায় জীবিকা অর্জনে সততা ও নৈতিকতার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) হারাম খাদ্যের পরিণাম সম্পর্কে অত্যন্ত কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন।
তিনি বলেছেন, অবৈধ উপার্জনের মাধ্যমে মানুষের শরীরে যে মাংস বৃদ্ধি পায়, সেই দেহের জন্য জাহান্নামই সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত। জামে তিরমিজি শরিফে এই বার্তা স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। অন্য এক হাদিসে তিনি আরও ইরশাদ করেছেন, যে দেহ হারাম খাদ্যে প্রতিপালিত হয়েছে, তা কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না।হারাম উপার্জনের সবচেয়ে মারাত্মক ক্ষতির দিকগুলোর একটি হলো এটি মানুষের দোয়া কবুল হওয়ার পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
ইসলামি নীতিমালায় বলা হয়েছে, মহান আল্লাহ পবিত্র এবং তিনি কেবল পবিত্র ও হালাল বস্তু ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করেন না। হাদিসে এমন এক ব্যক্তির উদাহরণ উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি দীর্ঘ সফর শেষে ক্লান্ত ও ধুসরিত অবস্থায় দুই হাত তুলে বারবার আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা জানান। অথচ তার খাবার হারাম, পানীয় হারাম, পরিধানের পোশাক হারাম এবং জীবিকাও অর্জিত হয়েছে অবৈধ উপায়ে। তখন প্রশ্ন তোলা হয়েছে, এমন ব্যক্তির দোয়া কীভাবে কবুল হতে পারে?
হালাল উপার্জন কেবল অর্জিত অর্থের পবিত্রতা নিশ্চিত করে না, বরং মানুষের সমগ্র জীবনে বরকত ও মানসিক প্রশান্তি নিয়ে আসে। পক্ষান্তরে হারাম উপার্জন মানুষের সমস্ত নেক আমল নষ্ট করে, আত্মাকে কলুষিত করে এবং আখিরাতে কঠিন শাস্তির কারণ হয়ে ওঠে।তাই জাগতিক শান্তি এবং পরকালীন মুক্তির জন্য প্রতিটি মুসলমানের উচিত জীবিকা অর্জনের ক্ষেত্রে সর্বদা হালাল পথ বেছে নেওয়া এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ বা সন্দেহজনক উপার্জন থেকে কঠোরভাবে নিজেকে দূরে রাখা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন