অক্টোবর ১৪, ২০২৫, ১১:২৫ এএম
জীবনে চলার পথে প্রয়োজনের তাগিদে মানুষকে অনেক সময় ঋণ বা ধার করতে হয়। কিন্তু কখনও কখনও সেই ঋণ পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে, যা মানসিক দুশ্চিন্তা ও কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ইসলামি জীবনাদর্শনে, চেষ্টার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। ঋণ থেকে মুক্তি পেতে এবং তা সহজে পরিশোধ করার তৌফিক লাভের জন্য মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) তার উম্মতকে বিশেষ দোয়া শিখিয়েছেন।
হাদিস শরিফে এমন একটি দোয়ার উল্লেখ রয়েছে যা পাঠ করলে পাহাড় সমান ঋণ থাকলেও আল্লাহ তা পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেন। হযরত আলি (রা.) বর্ণনা করেন, একজন চুক্তিবদ্ধ দাস তার কাছে এসে অর্থ পরিশোধে অক্ষমতার কথা জানালে তিনি বলেন, আমি কি তোমাকে এমন কিছু বাক্য শিখিয়ে দেব না যা রাসুল (সা.) আমাকে শিখিয়েছেন? তুমি এই দোয়াটি পড়বে। দোয়াটি হলো, ‘আল্লাহুম্মাকফিনি বিহালালিকা আন হারামিকা, ওয়া আগনিনি বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াক।’
এর অর্থ, ‘হে আল্লাহ, আপনি আপনার হালালের মাধ্যমে আমাকে পরিতুষ্ট করে হারাম থেকে বিরত রাখুন এবং আপনার অনুগ্রহের মাধ্যমে আপনি ছাড়া অন্য সবার থেকে আমাকে অমুখাপেক্ষী করুন।’ (তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৬৩)এছাড়াও, ঋণসহ যাবতীয় দুশ্চিন্তা, দুঃখ, অপারগতা, অলসতা, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে মুক্তি পেতে মহানবী (সা.) একটি সার্বজনীন দোয়া বেশি বেশি পড়তেন।
দোয়াটি হলো, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি, ওয়াল আজযি ওয়াল-কাসালি, ওয়াল বুখলি ওয়াল জুবনি, ওয়া দালাইদ দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজাল।’ এর অর্থ, ‘হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অপারগতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে এবং ঋণের বোঝা ও মানুষের দমন-পীড়ন থেকে আশ্রয় চাই।’ (বুখারি, হাদিস: ৬৩৬৯)এই দোয়াগুলো আন্তরিক বিশ্বাসের সঙ্গে পাঠ করলে এবং নিজের পক্ষ থেকে হালাল উপায়ে চেষ্টা অব্যাহত রাখলে আল্লাহ তাআলা ঋণ পরিশোধের পথ সহজ করে দেন।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন