নভেম্বর ১৭, ২০২৫, ১০:০৭ এএম
অবশেষে আটাশ বছরের দীর্ঘশ্বাসের অবসান ঘটল। ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে প্রায় তিন প্রজন্মের অপেক্ষার ইতি টেনে নরওয়ে ফিরে এলো বিশ্বকাপে। যে আলো ঝলমলে মঞ্চ, গ্রুপ পর্বের ড্র আর জাতীয় পতাকার গৌরব এতদিন স্বপ্ন ছিল, তাকেই বাস্তবে রূপ দিল দেশটির নতুন ফুটবল প্রজন্ম।
আর এই রূপকথার প্রধান কারিগর ম্যানচেস্টার সিটির গোলমেশিন আর্লিং হলান্ড। ইতালির বিপক্ষে এক দুর্দান্ত জয়ে নরওয়ে নিশ্চিত করেছে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট।
শেষবার তারা এই আসরে খেলেছিল ১৯৯৮ সালে, সে দলে ছিলেন হলান্ডের বাবা আলফ ইনগে হলান্ড। এবার ইতিহাস লিখলেন তার ছেলে।
ম্যাচের আগে সমীকরণটা ছিল স্পষ্ট। নরওয়ের সামনে ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা সারার অপেক্ষা, আর ইতালির সামনে ছিল নয় গোলের ব্যবধানে জেতার এক অসম্ভবের চ্যালেঞ্জ। তবুও ম্যাচের শুরুটা চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের পক্ষেই ছিল। মাত্র এগারো মিনিটের মাথায় ফেদেরিকো দিমারকোর পাস থেকে পিও এসপোসিতোর দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে আশার ক্ষীণ আলো জ্বেলে তোলে আজ্জুরিরা। প্রথমার্ধজুড়ে বল দখল, আক্রমণ আর শটের হিসাবে ইতালির দাপট থাকলেও দ্বিতীয় গোলটিই আর আসেনি। আর সেই ব্যর্থতাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
বিরতির পর মাঠে নামে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক নরওয়ে, আর তখনই নিজের আসল রূপ দেখান আর্লিং হলান্ড। ম্যাচের তিপ্পান্ন মিনিটে আন্তোনিও নুসারের দুর্দান্ত শটে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা। এরপরই শুরু হয় হলান্ড শো। অস্কার ববের ক্রস থেকে প্রথমে একটি বুলেট ভলিতে দলকে এগিয়ে দেন এবং মিনিট দুয়েক পরেই অবিশ্বাস্য সহজতায় নিজের দ্বিতীয় গোলটিও তুলে নেন এই স্ট্রাইকার।
বাছাইপর্বে আট ম্যাচে তার গোলসংখ্যা এখন ষোলোটি। ইনজুরি টাইমে ইয়ার্গেন স্ট্রান্ড লারসেন ইতালির কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় চার-এক। এই জয়ে নরওয়ের বিশ্বকাপ নিশ্চিত হলেও ইতালির জন্য অপেক্ষা করছে প্লে-অফের কঠিন এবং অস্থির পথ। ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপ মিস করার যন্ত্রণা আবারও যেন ছায়ার মতো ফিরে আসছে ইতালির ফুটবলে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন