সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বাংলাদেশি সব সাংবাদিকের অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল করল আইসিসি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ২৬, ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম

বাংলাদেশি সব সাংবাদিকের অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল করল আইসিসি

বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের জন্য একের পর এক দুঃসংবাদ আসছেই। ভারত সফরে গিয়ে খেলতে না চাওয়ার জেরে টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার পর এবার বাংলাদেশি সাংবাদিকদের ওপর বড় ধাক্কা দিল ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। এবারের টি-২০ বিশ্বকাপ কাভার করার জন্য বাংলাদেশ থেকে যত সাংবাদিক অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের আবেদন করেছিলেন তাদের সবার আবেদনই সরাসরি বাতিল করে দিয়েছে আইসিসি। 

এর ফলে দীর্ঘ কয়েক দশকের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো বড় ক্রিকেট আসরে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক উপস্থিতি থাকছে না যা দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকতা ও ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য এক বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আগের সূচি অনুযায়ী বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে এবং একটি ম্যাচ মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। বাংলাদেশ দল আসর থেকে বাদ পড়লেও পেশাগত দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাংবাদিক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইসিসির কাছে কার্ডের জন্য আবেদন করেছিলেন। 

অনেকেই ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যাওয়ার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন। কিন্তু আইসিসি কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই গণহারে সব আবেদন বাতিল করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশের প্রথম বিশ্বকাপ অংশগ্রহণের সময় থেকে প্রতিটি আসরেই বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সরব উপস্থিতি ছিল। এমনকি বাংলাদেশ দল যখন বিশ্বকাপে খেলত না তখনও এদেশের সাংবাদিকরা বড় এই টুর্নামেন্টগুলো কাভার করতেন।

আইসিসির এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের পর দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। সাংবাদিক নেতারা বলছেন যে এটি কেবল একটি দেশের সংবাদমাধ্যমকে বাধা দেওয়া নয় বরং মুক্ত সাংবাদিকতার ওপর বড় ধরনের হস্তক্ষেপ। ক্রিকেটপ্রেমী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের কাছে বিশ্বকাপের খবর পৌঁছে দেওয়ার যে দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে তা এই সিদ্ধান্তের ফলে বাধাগ্রস্ত হবে। ক্রীড়া সাংবাদিক সংগঠনগুলো 

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিসিবি ও সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তারা মনে করেন যে আইসিসির এমন বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জোরালো প্রতিবাদ হওয়া প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ক্রিকেট ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।