জুলাই ২, ২০২৬, ১১:১৮ পিএম
ফিফা বিশ্বকাপে ফের রেফারিং বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে। এবার আলোচনায় রয়েছে লিওনেল মেসি এবং মার্কিন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের সঙ্গে জড়িত দুটি ভিন্ন ঘটনার রেফারিং সিদ্ধান্ত। একই ধরনের ফাউলের ঘটনার ক্ষেত্রে কেন দুই ম্যাচে দুই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে ফোলারিন বালোগানকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হলেও, আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচে মেসি কার্ড পাননি।ফিফার রেফারিংয়ে ধারাবাহিকতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকরা।যুক্তরাষ্ট্র বনাম বসনিয়া ম্যাচে ফোলারিন বালোগান বল দখলের লড়াইয়ে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে আঘাত করলে ভিডিও সহকারী রেফারির পরামর্শে রেফারি তাকে লাল কার্ড দেখান।
অথচ আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচে মেসির ক্ষেত্রে ঠিক একই ধরনের ফাউলের ঘটনায় রেফারি কার্ড দেখানোর প্রয়োজন মনে করেননি, এমনকি ভিএআরের সাহায্যও নেওয়া হয়নি। এই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ফিফার রেফারিংয়ের মান ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভক্তরা।যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পোচেত্তিনো ম্যাচ শেষে এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন।
তিনি বালোগানের ট্যাকলটিকে সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত বলে দাবি করেছেন এবং কার্ডের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, বল দখলের স্বাভাবিক লড়াইয়ে এমন পরিস্থিতি যেকোনো সময় ঘটতে পারে, যা কখনোই সরাসরি লাল কার্ডের অপরাধ নয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে বালোগান পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলের বাইরে থাকবেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় ধাক্কা।
ফিফার রেফারিংয়ে এই ধরনের দ্বিচারিতা ফুটবলবিশ্বে নতুন নয়। তবে বিশ্বকাপে যখন প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব অপরিসীম, তখন রেফারিংয়ের মানদণ্ড নিয়ে এমন বিতর্ক খেলাটির মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে। এখন দেখার বিষয়, ফিফা কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয় কি না বা ভবিষ্যতের ম্যাচগুলোতে রেফারিংয়ে কতটা ভারসাম্য বজায় থাকে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন