জুলাই ১৫, ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
বিশ্বকাপের ম্যাচে লামিন ইয়ামালের গোল বাতিল এবং পরবর্তী সময়ে পেনাল্টি পাওয়া নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। টেলিভিশনের সাধারণ সম্প্রচারে ইয়ামালের পজিশন অনসাইড মনে হলেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর অফিশিয়ালি এর চিত্র প্রকাশ করেছে। ফিফার নিয়ম ও আধুনিক প্রযুক্তির নিখুঁত প্রয়োগের কারণেই এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে।
একটি ম্যাচেই একই খেলোয়াড়ের পক্ষে ও বিপক্ষে দুটি সিদ্ধান্ত গেছে।
সেমি অটোমেটেড অফসাইড টেকনোলজি অনুযায়ী, ইয়ামালের মাথা, থাই এবং ওয়েস্ট বা কোমরের কিছু অংশ অফসাইড লাইনের বাইরে ছিল। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী এই অংশগুলো দিয়ে গোল করা সম্ভব হওয়ায় প্রযুক্তি তাকে অফসাইড হিসেবে শনাক্ত করেছে। মাঠে থাকা প্রতিটি খেলোয়াড়ের শরীরে ২৯টি ডেটা পয়েন্ট থাকে, যেখান থেকে প্রতি সেকেন্ডে ১০ হাজার সারফেস মেশ ডেটা পয়েন্ট সংগ্রহ করে এই স্বয়ংক্রিয় অফসাইড নির্ধারণ করা হয়। ইতিপূর্বে ইরান, পর্তুগাল ও কলম্বিয়ার ম্যাচেও একই প্রযুক্তিতে নখের ব্যবধানে অফসাইড ধরে গোল বাতিল করা হয়েছিল।
অন্যদিকে পেনাল্টি এরিয়ার ভেতরে ইয়ামালকে ফাউল করার ক্ষেত্রে ফিফার নিয়ম বইয়ের দুটি বিষয় উঠে এসেছে। প্রথমত, ডিফেন্ডারের বুট অনেক উঁচুতে থাকায় এটি বিপজ্জনক খেলা বা ডেঞ্জারাস প্লে হিসেবে গণ্য হয়, যা বল স্পর্শ না করলেও পেনাল্টি বক্সের ভেতরে ইনডিরেক্ট ফ্রি কিকের জন্ম দেয়। দ্বিতীয়ত, ডিফেন্ডারের আঘাতটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত না হলেও তা অসাবধানতাবশত বা কেয়ারলেস ফাউল প্লে ছিল। ইয়ামালের বল তাড়া করার পূর্ণ স্বাধীনতা ছিল এবং ডিফেন্ডারের অসতর্কতার কারণে তার শারীরিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় পেনাল্টি দেওয়া হয়।

তবে কেয়ারলেস ফাউল প্লে কোনো কার্ড পাওয়ার মতো অপরাধ না হওয়ায় ডিফেন্ডারকে কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি বল ইয়ামালের স্লিভস বা জার্সির হাতায় লাগায় এবং কোনো অনস্বাভাবিক হাতের মুভমেন্ট না থাকায় এটিকে হ্যান্ডবল হিসেবে গণ্য করা হয়নি। শেষ পর্যন্ত এই পেনাল্টির সুবাদেই ম্যাচটিতে জয় সুনিশ্চিত করে স্পেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন