সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আর্জেন্টিনা কি পারবে অভিশাপ ভাঙতে?

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুলাই ২০, ২০২৬, ১২:২২ এএম

আর্জেন্টিনা কি পারবে অভিশাপ ভাঙতে?

ছবি - সংগৃহীত

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডকে শ্বাসরুদ্ধকর সেমিফাইনালে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে টিকিট কেটেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এই জয়ের পাশাপাশি তারা পুনরুদ্ধার করেছে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান। তবে এই আনন্দ উদযাপনের মাঝেই আলবিসেলেস্তে শিবিরে ভর করেছে এক পুরোনো ঐতিহাসিক খরা বা ‘অভিশাপের’ শঙ্কা।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর ২৬ দশমিক ৯০ পয়েন্ট অর্জন করে মোট ১৯৬০ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট নিয়ে বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠে এসেছে লিওনেল মেসির দল। এর আগে ২ জুলাই আর্জেন্টিনাকে টপকে শীর্ষে যাওয়া ফ্রান্স সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে শীর্ষস্থান হারায়। অন্যদিকে, ফ্রান্সকে হারিয়ে ৩০ দশমিক ৮২ পয়েন্ট যোগ করে ১৯৬৫ দশমিক ৬১ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালের প্রতিদ্বন্দ্বী স্পেন এখন তালিকার দ্বিতীয় স্থানে। ফলে বিশ্বকাপ ফাইনালটি এখন বিশ্ব ফুটবলের ১ নম্বর বনাম ২ নম্বর দলের লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে।

শীর্ষস্থান ফিরে পাওয়াটা মাঠের পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হলেও পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। ১৯৯২ সালে ফিফা অফিশিয়াল র‍্যাঙ্কিং চালু হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো দলই বিশ্বকাপের আগে বা টুর্নামেন্ট চলাকালীন র‍্যাঙ্কিংয়ের ১ নম্বরে থেকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। ফুটবল বিশ্বে এটি ‘রং নম্বর অভিশাপ’ হিসেবে পরিচিত।

ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ১৯৯৪ সালে ১ নম্বরে থাকা জার্মানি কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেয়। ১৯৯৮ সালে শীর্ষে থাকা ব্রাজিল ফাইনালে উঠলেও ফ্রান্সের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়। ২০০২ সালে শীর্ষ দল ফ্রান্স গ্রুপ পর্বই পার হতে পারেনি। একইভাবে ২০০৬ থেকে ২০১৪ সালের বিভিন্ন সময়ে শীর্ষস্থানে থাকা ব্রাজিল ও স্পেন ফেভারিট হিসেবে এসেও ছিটকে গেছে। সর্বশেষ ২০১৮ সালে ১ নম্বরে থাকা জার্মানি গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল।

চলতি বিশ্বকাপে ফ্রান্সের আধিপত্য ভেঙে আর্জেন্টিনা যখনই শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছে, তখনই তিন দশকের এই অভিশাপের চাকা তাদের দিকে ঘুরে গেছে। লিওনেল মেসি ও কোচ লিওনেল স্কালোনির সামনে এখন দ্বৈত চ্যালেঞ্জ—একদিকে ইউরোপের পরাশক্তি স্পেনের বিপক্ষে শিরোপা ধরে রাখা, অন্যদিকে ৩২ বছরের এই অপয়া পরিসংখ্যান ভেঙে নতুন ইতিহাস রচনা করা। আজকের ফাইনালেই মিলবে এই ঐতিহাসিক প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর।