বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬,

অভিষেকেই বাজিমাত করা রাজাউল্লাহকে নিয়ে বাবর রুটের প্রশংসা

স্পোর্টস ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬, ০১:২৯ পিএম

অভিষেকেই বাজিমাত করা রাজাউল্লাহকে নিয়ে বাবর রুটের প্রশংসা

ছবি :সংগ্রহীত

অভিষেকেই বাজিমাত করা পেসার রাজাউল্লাহ মাসওয়ানিকে ঘিরে এজবাস্টন টেস্ট শেষে ক্রিকেট বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে আট উইকেটে হেরে পাকিস্তান ৩-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই হলেও আলোচনায় উঠে এসেছেন এই তরুণ ক্রিকেটার। বল হাতে প্রথম ইনিংসে চার উইকেট শিকারের পর দ্বিতীয় ইনিংসে নয় নম্বরে নেমে ৬৩ বলে নয়টি ছক্কায় ৮১ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস উপহার দেন তিনি।  অধিনায়ক বাবর আজমও তাকে আগে সেভাবে চিনতেন না।  

 

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একুশ বছর বয়সী রাজার শুরুটা ছিল স্মরণীয়। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক জো রুটকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে তিনি প্রথম উইকেট তুলে নেন। ঘণ্টায় একশত চল্লিশ কিলোমিটারের বেশি গতিতে নিয়মিত বল করে প্রথম ইনিংসে একশত আটচল্লিশ রান খরচায় চারটি উইকেট দখল করেন, যা ওই ইনিংসে পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে সেরা। এরপর ব্যাট হাতে মাঠে নেমে গড়েন অনন্য এক কীর্তি। টেস্ট অভিষেকে যৌথভাবে সর্বোচ্চ নয়টি ছক্কার রেকর্ডে নাম লেখান তিনি, পাশাপাশি মাত্র তেতাল্লিশ বলে ফিফটি করে দেশের ইতিহাসে দ্রুততম অভিষিক্তের রেকর্ড গড়েন।  ম্যাচে পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে মাত্র একশত তেত্রিশ রানে গুটিয়ে গিয়ে তিনশত বিশ রানের বড় ঘাটতিতে পড়েছিল। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে রাজাসহ পাঁচজন ব্যাটারের অর্ধশতকের ওপর ভর করে সফরকারীরা চারশত উনপঞ্চাশ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায়। 

 

এতে স্বাগতিকদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় একশত উনত্রিশ রান, যা দুই উইকেট হারিয়েই টপকে যায় ইংল্যান্ড। দল হারলেও ব্যাট ও বলের দৃঢ়তায় আলো ছড়ান খাইবার পাখতুনখাওয়া থেকে আসা এই ক্রিকেটার।  লর্ডস টেস্টে পরাজয়ের পর পাকিস্তান দলের ভেতরে চরম অস্থিরতা তৈরি হয় এবং স্কোয়াড থেকে সাতজনকে বাদ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অন্তর্ভুক্ত খেলোয়াড়দের পাঁচজনই ছিলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনভিষিক্ত, যাদের একজন রাজা। বাবর আজম জানান, মাঠে নামার আগে এই তরুণ সম্পর্কে তিনি খুব বেশি কিছু জানতেন না। তবে ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ওপেনিংয়ে নেমে একটি সেঞ্চুরির কথা তিনি শুনেছিলেন। 

 

বাবর উল্লেখ করেন, রাজার এই আগ্রাসী পারফরম্যান্স পুরো দলকে আলাদা আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।  প্রতিপক্ষ অধিনায়ক জো রুটও পাকিস্তানি এই ক্রিকেটারের আগ্রাসী শটের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। রুট জানান, রাজার মারমুখী ব্যাটিংয়ের কারণে মাঠে ফিল্ডিং সাজানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। বলের ওপর তার আঘাত এতই জোরালো ছিল যে পেশিতে চোট না লাগা দেখে অবাক হয়েছেন ইংলিশ দলনেতা। তবে পরিস্থিতি প্রতিপক্ষের জন্য জটিল করে তোলার কৃতিত্ব তিনি রাজাউল্লাহকে দেন।