অক্টোবর ২২, ২০২৫, ১২:০১ এএম
আইসিসি নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলার ক্ষীণ আশা বাঁচিয়ে রাখতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়টা বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য ছিল। বোলাররা প্রতিপক্ষকে ২০২ রানে আটকে দিয়ে সেই জয়ের মঞ্চ প্রস্তুতও করে দিয়েছিলেন। কিন্তু তীরে এসে তরী ডুবল ব্যাটারদের অবিশ্বাস্য ব্যর্থতায়। শেষ ওভারে ৯ রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ মাত্র ১ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারিয়ে ৭ রানে ম্যাচটি হেরে যায়, যা টুর্নামেন্ট থেকে তাদের বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দেয়।
পুরো ম্যাচ জয়ের পথেই ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ঠিক কোথায় ভুল করলেন নিগার সুলতানা জ্যোতিরা?৪৪ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর চতুর্থ উইকেটে ৮২ রানের দুর্দান্ত এক জুটি গড়েন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ও শারমিন আক্তার সুপ্তা। এই জুটি যখন বাংলাদেশকে জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিল, ঠিক তখনই পায়ে ক্র্যাম্পের কারণে ‘রিটায়ার্ড হার্ট’ হয়ে মাঠ ছাড়তে হয় সুপ্তাকে। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক জ্যোতি নিজেই স্বীকার করেছেন, “আমি আর সুপ্তা খুব ভালো ব্যাট করছিলাম।
সে যখন মাঠ ছেড়ে চলে গেল, মোমেন্টামও কিছুটা বদলে গেছে।”সুপ্তা মাঠ ছাড়ার পর স্বর্ণা আক্তারের সঙ্গেও ৫০ রানের জুটি গড়েন জ্যোতি। কিন্তু স্বর্ণা আউট হওয়ার পর ক্রিজে আসেন অভিজ্ঞ রিতু মনি। জয়ের জন্য যখন বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান দরকার, তখন রিতু মনি ১৩ বল খেলে করেন মাত্র ৭ রান। তার এই ধীরগতির ব্যাটিং শেষ ওভারের আগে দলের ওপর চাপ বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৯ রান, হাতে ৫ উইকেট। এমন সহজ সমীকরণও মেলাতে পারেনি বাংলাদেশ। লঙ্কান অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তুর করা শেষ ওভারে মাত্র ১ রান তুলতেই একে একে ৪ জন ব্যাটার আউট হয়ে ফিরে যান। এই চূড়ান্ত ব্যাটিং বিপর্যয়ই বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্বপ্নকে চূর্ণ করে দেয়।
ম্যাচ শেষে অধিনায়ক জ্যোতি বলেন, “এটা অবশ্যই হৃদয়বিদারক। আমরা ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং এখন শ্রীলঙ্কার কাছে—টানা তিনটি জেতা ম্যাচ হারলাম। আমরা শেষ মুহূর্তে স্নায়ুর চাপ ধরে রাখতে পারছি না। এই ধরনের লক্ষ্য তাড়া করার সময় ম্যাচ শেষ ওভারে নিয়ে যাওয়াই উচিত হয়নি। এটা আমাদেরই দোষ।”



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন