অক্টোবর ২৮, ২০২৫, ০৯:১৬ পিএম
অবশেষে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের উপকূলে প্রবল শক্তি নিয়ে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রভাগ উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করে, যাকে আবহাওয়ার ভাষায় ‘ল্যান্ডফল’ প্রক্রিয়া বলা হয়। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের বরাত দিয়ে আনন্দবাজারসহ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এ খবর জানিয়েছে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের প্রকাশিত বুলেটিন অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি শেষ ছয় ঘণ্টায় বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার গতিতে উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়েছে। সন্ধ্যায় অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে এটি আছড়ে পড়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। মছলিপত্তনম এবং কলিঙ্গপত্তনমের মাঝামাঝি কাকিনাড়ার কাছে এর ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়া আগামী তিন থেকে চার ঘণ্টা ধরে চলবে বলে জানানো হয়েছে। এরপর ঘূর্ণিঝড়টি ক্রমশ স্থলভাগের আরও ভেতরে উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে দুর্বল হয়ে পড়বে।
ভারতীয় আবহাওয়া ভবন (আইএমডি) জানিয়েছে, ল্যান্ডফলের সময় ঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার থাকছে। দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে এর গতিবেগ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর অত্যন্ত উত্তাল রয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক তাণ্ডব চালাচ্ছে মোন্থা।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড়টি সরাসরি পশ্চিমবঙ্গে আঘাত হানার কোনো সম্ভাবনা না থাকলেও এর প্রভাবে ওই রাজ্যেও উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কলকাতার আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ঘূর্ণিঝড়ের পরোক্ষ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বুধবার থেকে উত্তরবঙ্গেও ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
কলকাতার দক্ষিণের জেলাগুলোতে (দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম) বজ্রবিদ্যুৎসহ ভারী বৃষ্টি (৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার) এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়ার জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।
যদিও ঘূর্ণিঝড়টি সরাসরি বাংলাদেশে আঘাত হানছে না, তবে এর প্রভাবে মঙ্গলবার দুপুর থেকেই দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি শুরু হয়েছে এবং বুধবার থেকে সারা দেশেই বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং জেলেদের উপকূলের কাছাকাছি নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন