রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বড়াইগ্রামে ২১ বিঘায় মিশরীয় মাল্টা চাষে সাফল্য

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ১০, ২০২৫, ০৭:০৩ পিএম

বড়াইগ্রামে ২১ বিঘায় মিশরীয় মাল্টা চাষে সাফল্য

নাটোরের বড়াইগ্রামে বাণিজ্যিকভাবে ২১ বিঘা জমিতে মিশরীয় জাতের মাল্টা চাষ করে দারুণ সফলতা পেয়েছেন চাষি মিজানুর রহমান। তার এই অসামান্য সাফল্যে তিনি এখন উপজেলাজুড়ে ‘মাল্টা মিজান’ নামেই পরিচিত। মাল্টা চাষের পাশাপাশি তিনি দুই বিঘা জমিতে ড্রাগন, ১৫ বিঘা পেয়ারা, ৪ বিঘা পেঁপে।

 এক বিঘা আঙ্গুর এবং এক বিঘা জমিতে আলু বোখারা ও অ্যাভোকাডো চাষ করে কৃষি খাতে এক বিপ্লব ঘটিয়েছেন।উপজেলার মাঝগ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান একসময় পেশায় ট্রাক চালক ছিলেন।

বাড়তি আয়ের সন্ধানে সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটানোর সময় তিনি ইউটিউবে ময়মনসিংহের এক চাষির মাল্টা চাষের সফলতা দেখে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত হন।

দেশে ফিরে তিনি ২০১৭ সালে বড়াইগ্রামের আটঘরিয়া এলাকায় ৭ বিঘা জমি লিজ নিয়ে মিশরীয় মাল্টা চাষ শুরু করেন। প্রাথমিক সফলতার পর তিনি দুই দফায় জমির পরিমাণ বাড়িয়ে বর্তমানে ২১ বিঘা জমিতে মাল্টা চাষ করছেন।বর্তমানে মিজানুরের বাগানে দুই হাজার ১০০টি মাল্টা গাছ রয়েছে। চারা রোপণের দুই বছর পর ফলন শুরু হলেও তিন বছর পর প্রতিটি গাছে পূর্ণাঙ্গ ফল আসে। তিনি জানান, প্রতিটি গাছ থেকে তিনি গড়ে ৩০০–৪০০টি মাল্টা পান। তার এই বাগানে সারা বছর ৭ থেকে ৮ জন শ্রমিক কাজ করেন।

মিজানুর রহমানের দেওয়া তথ্য মতে, প্রতি বিঘা জমি থেকে বছরে প্রায় দুই লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করা সম্ভব। এই হিসাবে তার সম্পূর্ণ মাল্টা বাগান থেকে বছরে কমপক্ষে ৪২ লাখ টাকার ফল বিক্রি হয়। তিনি আশা করছেন, চলতি মৌসুমে সব ফল বিক্রি শেষে লিজের খরচ, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বাদ দিয়ে তিনি কমপক্ষে ২৫ লাখ টাকা লাভ করতে পারবেন। তার বাগানের মূল ক্রেতারা সাধারণত ঢাকাসহ নারায়ণগঞ্জ, পাবনা, মুন্সীগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর থেকে সরাসরি আসেন।

মাল্টা চাষের পেছনের অনুপ্রেরণা সম্পর্কে মিজানুর বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন ফলে ফরমালিনের ব্যবহার বেড়ে গেছে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। মানুষকে নিরাপদ ও ফরমালিনমুক্ত ফল খাওয়ানোর উদ্দেশ্য নিয়েই তিনি এই বাগান করেছেন। তার মতে, অল্প পরিশ্রমে ও কম খরচে মাল্টা চাষ করে সহজেই লাভবান হওয়া সম্ভব। তিনি দেশের উদ্যমী তরুণদের দেশেই বিভিন্ন ফল চাষ করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানান।

তবে তিনি কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আশানরূপ সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজিব আল মারুফ জানান, মাল্টা চাষে সফল মিজানুরকে সারসহ নানাভাবে সহযোগিতা করা হয়েছে। তার এই সাফল্য দেখে বর্তমানে উপজেলাজুড়ে প্রায় ১৫ হেক্টর জমিতে মাল্টা চাষ শুরু হয়েছে। তবে সরকারিভাবে বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা না থাকায় চাষিদের সহযোগিতার সুযোগ সীমিত বলে তিনি জানান। মিজানুরের এই কৃষি সংবাদ দেশের তরুণদের জন্য নতুন পথের দিশা দেখাচ্ছে।