নভেম্বর ১৪, ২০২৫, ০৯:৪১ পিএম
গ্রীষ্মকালীন রূপবান জাতের শিম চাষ করে শীতকালীন শিমের চেয়ে অন্তত চারগুণ বেশি লাভবান হচ্ছেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কৃষকরা। সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি ভূমিতে যতদূর চোখ যায় এখন শুধুই ফুটে আছে বেগুনি রঙের রূপবান শিমের ফুল আর থোকা থোকা শিম ঝুলছে।
কৃষকদের কেউ কেউ বাজারে বিক্রির জন্য শিম তুলছেন আবার কেউ শিমের পরিচর্যায় ব্যস্ত। এই উপজেলায় শীতকালীন শিম বিশেষ করে ছুরি লইট্টা ও বাঁটা শিমের চাহিদা বেশি থাকলেও গ্রীষ্মকালীন রূপবান শিমও সুস্বাদু ও লাভজনক হওয়ায় দিন-দিন এর চাষ দ্রুত বাড়ছে।
সীতাকুণ্ড উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে দুই বছর আগেও এই উপজেলায় মাত্র সাত হেক্টর জমিতে রূপবান শিম চাষ।
হতো কিন্তু ধারাবাহিক সাফল্য এবং উচ্চমূল্যের কারণে গত বছর রূপবান শিমের চাষ এক লাফে ৩০ হেক্টরে পৌঁছেছে। চলতি বছরও একই পরিমাণ জমিতে এই শিমের চাষ করে বিপুল লাভবান হয়েছেন কৃষকরা। সরেজমিনে কুমিরা ইউনিয়নের বড় কুমিরা পাহাড়ে দেখা যায় সেখানকার ঢালু অংশে মাচা তৈরি করে শিমের চাষ করা হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে এই শিম পাইকারিতে প্রতি কেজি ২৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছিল এবং বর্তমানে অনেকের জমি থেকে শিম উঠলেও প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে যা কৃষকের মুখে হাসি ফিরিয়ে এনেছে।
চৌধুরীপাড়ার বাসিন্দা কৃষক ইউসুফ নবী রেললাইনের পাশে ৩০ শতক জমিতে রূপবান শিম চাষ করে আনুমানিক ৭০ হাজার টাকা খরচ করে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করেছেন এবং আগামী এক-দেড় মাসে আরও অন্তত ১ লাখ টাকার শিম বিক্রি হতে পারে বলে আশা করছেন। তিনি বলেন বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় শিমের ফুল ঝরে যাচ্ছে, অন্যথায় লাভের পরিমাণ আরও বাড়তো। ধর্মপুর এলাকার কৃষক জাহাঙ্গীর আলম গত ১০ বছর ধরে ২০০ শতক জমিতে রূপবান শিম চাষ করে আসছেন।
তিনি জানান পাহাড়ে চাষাবাদ করায় কোনো খাজনা বা সেচের চিন্তা নেই এবং এই জমি থেকে তিনি এরই মধ্যে ৮ লক্ষাধিক টাকার শিম বিক্রি করেছেন। ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকাররা এসে এ শিম নিয়ে যাচ্ছেন।উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুজন ঘোষ জানান সীতাকুণ্ডের পাহাড়ে শিম আবাদ করে শত শত কৃষক সফলতা পেয়েছেন এবং স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চাষিরা এখন রূপবান শিম বিদেশেও রপ্তানি করছেন।
তিনি বলেন প্রতি হাটে অর্থাৎ সপ্তাহে দু’দিন ইউনিয়ন থেকে অন্তত ১৫ টন শিম বিক্রি করেন কৃষকেরা যার মূল্য ১৮ থেকে ২২ লাখ টাকা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হাবিবুল্লা জানান ২০১০ সালে সীতাকুণ্ডে পরীক্ষামূলকভাবে মাত্র পাঁচ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন রূপবান শিম চাষ শুরু হয়েছিল যা এখন সফলতায় পরিণত হয়েছে। ভালো দাম পাওয়ায় সব কৃষকই লাভবান হয়ে খুশি এবং ভবিষ্যতে এই শিমের চাষ আরও বাড়বে বলে তিনি মনে করছেন।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন