রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

নবাবগঞ্জে ধান কাটা-মাড়াইয়ে ব্যস্ত কৃষক

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ২৬, ২০২৫, ০৫:৪৪ পিএম

নবাবগঞ্জে ধান কাটা-মাড়াইয়ে ব্যস্ত কৃষক

প্রকৃতির অনুকূল আবহাওয়া এবং আশানুরূপ ফলনের কারণে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় আমন ধান কাটা-মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। কৃষকের মুখে এখন স্বস্তির হাসি। মাঠজুড়ে এখন শুধুই ধান কাটা-মাড়াই এবং খড় শুকানোর ব্যস্ততা।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) সরেজমিনে উপজেলা ঘুরে এই উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়।উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নবাবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হাইব্রিড ও উফসী জাতের (যেমন ব্রি ধান ৫১, সর্ণা-৫।

চিনি আতব) আমনের চারা রোপণ করা হয়েছিল। স্থানীয় জাতের আমনেরও চাষ হয়েছে কিছু কিছু এলাকায়। সব জাতেরই ধানে এ বছর আশানুরূপ ফলন হয়েছে।

চলতি আমন মৌসুমে ৭ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও, চাষ হয়েছে ৭ হাজার ৮৫৫ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে চাষের পরিমাণ।নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ইলিয়াস বলেন, এ বছর উপজেলায় মোট ৭ হাজার ৮৫৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম জাতের হাইব্রিড ও উপসী ধান চাষ হয়েছে। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রোপা আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে।

শাল্টিমুরাদপুর গ্রামের কৃষক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, "এবার ধান ফলন ভালো হয়েছে। বিঘাপ্রতি উৎপাদন গত বছরের চেয়ে বেশি। ধানের দাম মন প্রতি ১১৫০-১২০০ টাকা আছে। আল্লাহর রহমতে ধান ঘরে তুলতে পারছি, এটাই বড় আনন্দ।"তবে কৃষকরা লাভ-ক্ষতির হিসাব নিয়ে সতর্ক। বিনোদনগর ইউনিয়নের কৃষক সবুজ রানা বলেন, কয়েক দিন টানা রোদ থাকায় ধান কাটার কাজ দ্রুত করা যাচ্ছে, কিন্তু সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের খরচ বাড়ায় লাভের পরিমাণ কমে যেতে পারে। তিনি জানান, ধান কাটা বাবদ বিঘাপ্রতি ২২০০ টাকা খরচ হচ্ছে।

কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ইলিয়াস আশা প্রকাশ করেন, মাঠের এই উৎসবমুখর পরিবেশ কৃষকের পরিশ্রম আর আশার প্রতিচ্ছবি। সোনালি শীষ ঘরে তুলেই তারা নতুন স্বপ্নে বুক বাঁধছেন আগামী মৌসুমের জন্য।