ডিসেম্বর ৪, ২০২৫, ০৬:৫০ পিএম
এই মুহূর্তে সুনামগঞ্জের হাওরজুড়ে চলছে সোনালী রোপা আমন ধান ঘরে তোলার এক বিশাল উৎসব। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের নিবিড় তদারকির কারণে চলতি মৌসুমে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।
ফলনের এই প্রাচুর্যে কৃষক ও কৃষাণীদের মুখে এখন খুশির হাসি ফুটে উঠেছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছরের উৎপাদন আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জ জেলার মোট ৮২ হাজার ৬৫৬ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদ করা হয়েছিল।
উফশী, হাইব্রিড এবং স্থানীয় জাতের ধান মিলিয়ে চালের হিসাবে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজার ৯৯৭ মেট্রিক টন, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ হাজার ১০৭ কোটি টাকারও বেশি দাঁড়াবে।আজ বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) পর্যন্ত জেলার হাওর এলাকাগুলোতে প্রায় ৫০ শতাংশ ধান কাটার কাজ শেষ হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ নিশ্চিত করেছে। কৃষি বিভাগের অনুমান—আবহাওয়া এভাবে অনুকূলে থাকলে আরও পনেরো থেকে বিশ দিনের মধ্যেই পুরো জেলার ধান কাটার কাজ সমাপ্ত হবে।
সরেজমিনে মাঠে গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষাণ–কৃষাণীরা ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। কৃষাণীরাও ধান খলার মাঠে কুলা হাতে ধান থেকে ছোঁচা ঝেড়ে ফেলার কাজে নিয়োজিত। ডাকুয়ার হাওরের কৃষক রফিকুল ইসলাম ধানের স্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গত বছরের তুলনায় এবার ফলন অনেক ভালো হয়েছে এবং আল্লাহর রহমতে তিনি লাভবান হবেন বলে আশা করছেন। জোয়ালভাঙা হাওরের কৃষক হাসান আলীও ফসল ঘরে তুলতে পেরে নিজের আনন্দের কথা প্রকাশ করে বলেন, আল্লাহর সাহায্যে এবার আমাদের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে এবং আশা করি বাজারে ন্যায্য দামও পাওয়া যাবে।
অচিন্তপুরের কৃষক আবদুল হামিদের ভাষ্যমতে, তিনি দশ কেদার আমন জমি চাষ করে প্রতি কেদারে পনেরো মন করে ধান পেয়েছেন। তিনি বলেন, ধান ঘরে তুলতে পেরে এখন মনে অনেক স্বস্তি আসছে এবং আল্লাহর রহমতে লাভও হবে বলে বিশ্বাস করি। বিশ্বম্ভরপুরের কৃষক রাশেদ খান বলেন, সরকারের সহায়তা এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে চাষাবাদ অনেক সহজ হয়েছে এবং ফসল ভালো হওয়ায় মন খুশিতে ভরে গেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, আমরা মৌসুমের শুরু থেকেই কৃষকদের উচ্চ ফলনশীল জাত নির্বাচন, সঠিক রোপণ, সার প্রয়োগ এবং কীটনাশক ব্যবহারের বিষয়ে নিবিড় প্রশিক্ষণ দিয়েছি। পাশাপাশি মাঠে আমাদের কর্মকর্তারা কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়ায় এবার হাওরে আমনের বাম্পার ফলন সম্ভব হয়েছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন