রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বগুড়ায় বাম্পার ফলন: ন্যায্য দামে আমন ধান বিক্রি করে কৃষকের মুখে হাসি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ৮, ২০২৫, ১১:৩১ এএম

বগুড়ায় বাম্পার ফলন: ন্যায্য দামে আমন ধান বিক্রি করে কৃষকের মুখে হাসি

ভালো ফলন এবং ন্যায্য দামে আমন ধান বিক্রি করতে পারায় বগুড়া জেলার কৃষকদের মধ্যে আমন চাষে নতুন উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কয়েক দফা বৃষ্টি হওয়ায় আমন ধানের জন্য অতিরিক্ত সেচের প্রয়োজন হয়নি।

এর ফলে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি ফলনও হয়েছে অত্যন্ত সন্তোষজনক। জেলার সদর, শেরপুর, শিবগঞ্জ, নন্দীগ্রাম, গাবতলী, ধুনটসহ প্রায় সব উপজেলাতেই এখন পুরোদমে ধান কাটা-মাড়াইয়ের ব্যস্ত সময় চলছে।

মাঠের চারদিকে সোনালি ধানের সমারোহে কৃষকদের মুখে এখন স্বস্তির হাসি। রফিকুল ইসলাম নামে এক কৃষক জানিয়েছেন।

গত দুই বছরের তুলনায় এবার ধান অনেক ভালো হয়েছে এবং ঠিক সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় সেচ খরচ অনেকটাই কমেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিঘাপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ মন পর্যন্ত ধান উঠছে, যা ফলন ভালো হওয়ার কারণে ঘরের খরচ চালানো এবং ধারদেনা শোধ করার সুযোগ করে দেবে। আরেক কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, মৌসুমের শেষ দিকে বৃষ্টিতে কিছু ধান নুয়ে পড়েছিল ঠিকই, কিন্তু সামগ্রিক ফলনে তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি, আর বাজারে দামও মোটামুটি সন্তোষজনক রয়েছে। কৃষকরা আরও দাবি করেছেন, উচ্চফলনশীল জাতের বীজ সরবরাহ এবং কৃষি বিভাগের দেওয়া উন্নত বীজ ব্যবহার করাও ফলন বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।

বগুড়া জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বগুড়ায় মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। এখান থেকে প্রায় ৯ লাখ ৯১ হাজার ৯১৭ টন ধান এবং চাল আকারে ৬ লাখ ৬১ হাজার ২৭৮ টন উৎপাদনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপপরিচালক কৃষিবিদ সোহেল মো. শামসুদ্দীন ফিরোজ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, মাঠ পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমের শেষে বৃষ্টিতে কিছু ধান নুয়ে পড়লেও ক্ষতির সম্ভাবনা নেই এবং এ বছর আমনের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে আমরা আশা করছি।