ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫, ০৪:০৬ পিএম
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় মাঠজুড়ে এখন আগাম সরিষার হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে। আমন ধান কাটার আগেই বিনা চাষে (Zero Tillage) ও রিলে পদ্ধতিতে (Relay Cropping) সরিষা আবাদ করে কৃষকরা এবার বাড়তি লাভের স্বপ্ন দেখছেন।
কৃষি বিভাগের সহায়তা, প্রণোদনা ও অনুকূল আবহাওয়ায় চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষিরা।বিভিন্ন মাঠে হলুদ ফুলে ভরা সরিষার ক্ষেতে মৌমাছির গুঞ্জন দেখা যাচ্ছে।
আমন ও বোরো ধান চাষের মাঝখানে, তুলনামূলক স্বল্প সময়ে ও কম খরচে চাষযোগ্য এই তেলজাতীয় ফসলটি এখন কৃষকের বাড়তি আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠেছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়:গত বছরের আবাদ: ১৬৩ দশমিক ৫ হেক্টর জমি।চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা: ১৮০ হেক্টর জমি।মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা: ২১৬ মেট্রিক টন (গড় উৎপাদন প্রতি হেক্টরে ১.২ টন ধরে)।তবে মাঠের বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা আশা করছেন, এবার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি উৎপাদন হবে।সরিষা চাষ সম্প্রসারণে সরকারি প্রণোদনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।৩০০ কৃষক: বিনামূল্যে ১ কেজি সরিষা বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি পটাশ সার বিতরণ করা হয়েছে।
আরও ২১০ কৃষক: বিনামূল্যে বীজ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।৪০ কৃষক: বীজ, রাসায়নিক সার, জৈব সার ও বালাইনাশক দেওয়া হয়েছে।চলতি মৌসুমে আবাদ হওয়া উল্লেখযোগ্য জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে বারি সরিষা-১৪, বারি সরিষা-১৭, বারি সরিষা-২০, বিনা সরিষা-৯ ও বিনা সরিষা-১১।ফকিরহাটের কৃষক জসিম শেখ, মিঠুন দাস ও তপন দাস জানান, কৃষি অফিসের পরামর্শে তারা আমন ও বোরো ধানের মাঝখানে সরিষা চাষ শুরু করেছেন। এতে মাটির উর্বরতা বজায় থাকছে এবং কম শ্রম ও কম খরচে অতিরিক্ত ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হচ্ছে।
বেতাগা গ্রামের কৃষক পরেশ দাস ও সুধাংশু দাস জানান,আমন ধান থাকা অবস্থাতেই তারা জমিতে বিনা চাষে সরিষা বীজ ছিটিয়ে দেন। সেই সরিষায় ইতোমধ্যে ফুল এসেছে। আগাম সরিষা আহরণের পর একই জমিতে আবার বোরো ধান চাষ করবেন। এতে বছরে একটি অতিরিক্ত ফসল পাওয়ার পাশাপাশি বাড়তি চাষ, সার ও ওষুধের খরচও কমবে।”উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সরিষা এখন কৃষকের জন্য লাভজনক একটি মধ্যবর্তী ফসল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন