ডিসেম্বর ২১, ২০২৫, ১০:১৬ পিএম
উত্তরের পাঁচ জেলা—রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারীতে আগাম আলু চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন কৃষকরা। গত কয়েক বছরের লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে চাষ শুরু করলেও, বর্তমান বাজার দর ও চাহিদায় স্বস্তি ফিরেছে চাষিদের মাঝে।
অধিকাংশ ক্ষেতের আলু এখন আর বাজারে নেওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে না, পাইকাররা মাঠ থেকেই নগদ টাকায় আলু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
রংপুর কৃষি অঞ্চলের তথ্যমতে, এবার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আগাম জাতের আলু উত্তোলন শুরু হয়েছে। পাইকাররা প্রকারভেদে প্রতি কেজি আলু ৪৯ থেকে ৫২ টাকা দরে কিনে নিচ্ছেন।
যদিও কৃষকদের দাবি, গত বছর এই সময়ে আলুর দাম ছিল কেজি প্রতি ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা। তবে এবার বীজের দাম গতবারের তুলনায় কম হওয়ায় লাভের অঙ্ক খুব একটা কম হবে না বলে আশা করছেন তারা। ইতোমধ্যে রংপুর বিভাগের আড়াই হাজার হেক্টর জমির আগাম আলু উত্তোলন সম্পন্ন হয়েছে।সরেজমিনে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, সকালের কুয়াশা ভেদ করে নারী ও পুরুষ শ্রমিকরা আলু উত্তোলনে ব্যস্ত।
ক্ষেতের পাশেই ডিজিটাল মিটারে ওজন মেপে ব্যবসায়ীরা সাথে সাথে কৃষকদের মূল্য পরিশোধ করছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, নতুন আলুর চাহিদা রাজধানী ঢাকা ও দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক থাকায় তারা সরাসরি মাঠ থেকেই আলু সংগ্রহ করে ট্রাকে লোড দিচ্ছেন। এতে কৃষকদের পরিবহন খরচ ও সময় দুই-ই সাশ্রয় হচ্ছে।
রংপুর কৃষি অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, "চাষিরা এবার আলুর ভালো দাম পাচ্ছেন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা এসে জমি থেকে সরাসরি আলু কিনে নেওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।" কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজার স্থিতিশীল থাকলে এবার আলু চাষিরা গত কয়েক বছরের ক্ষতি পুষিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন। আগাম আলু তোলার পর ওই জমিতেই এখন ভুট্টা বা তামাক চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন উত্তরাঞ্চলের কৃষকরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন