জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
পদ্মা-মেঘনা বিধৌত শরীয়তপুর জেলার চরাঞ্চলে পলি ও দোআঁশ মাটির প্রাচুর্য থাকায় এ বছর পেঁয়াজের ব্যাপক ফলন হয়েছে। বিশেষ করে জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছেন চাষীরা।
শরীয়তপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ হাজার ৩৫২ হেক্টর জমিতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৪ হাজার ৬৫২ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩০০ হেক্টর বেশি।
জেলায় পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা ২৯ হাজার ৭৭২ টন। বিপরীতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬১ হাজার ৫১ টন। যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে, তবে জেলার নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
ইতোমধ্যেই আগাম জাতের 'মুড়ি কাঁটা' পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছে। ফলে বাজারে পেঁয়াজের দামের ঊর্ধ্বগতিতে লাগাম পড়েছে। বর্তমানে শরীয়তপুরের খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।ফলন ভালো হলেও ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অনেক কৃষক। নাওডোবা এলাকার পেঁয়াজ চাষী তবারক আলী জানান, অনেক চাষী ঋণ করে ফসল ফলিয়েছেন। যদি বাজারে পেঁয়াজের দাম আরও কমে যায়, তবে খরচের টাকা তোলা কঠিন হয়ে পড়বে। চাষীরা সরকারের কাছে পেঁয়াজের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
শরীয়তপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন জানান, "চরাঞ্চলের মাটি পেঁয়াজ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদন বেশি হওয়ায় দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের স্বস্তি দিলেও আমরা কৃষকদের স্বার্থের দিকেও খেয়াল রাখছি।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন