ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০২:১৬ পিএম
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলাজুড়ে এখন আমের মুকুলের সমারোহ। উপজেলার গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই আমগাছে ফুটেছে সোনালি মুকুল। মুকুলের মিষ্টি সুবাসে ভরে উঠেছে চারপাশের পরিবেশ, যা প্রকৃতিপ্রেমী ও কৃষকদের মনে নতুন আশার বার্তা দিচ্ছে। ভোরের কুয়াশা ভেদ করে সূর্যের আলো পড়তেই বাগানগুলোতে মুকুলের সোনালি আভা ঝলমল করে উঠছে।
উপজেলার পাল্টাপুর, নিজপাড়া, সাতোর ও ভোগনগরসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনা, রাস্তার ধারের গাছ এবং বাণিজ্যিক আম বাগানে মুকুলে ছেয়ে গেছে ডালপালা।
স্থানীয় চাষি কুদ্দুস আলী জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুকুলের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি, ফজলি, গোপালভোগ, ক্ষিরসাপাত, আশ্বিনা এবং হারিভাঙ্গা জাতের আমগাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। বাগান মালিকরা ইতোমধ্যে মুকুল রক্ষা ও ভালো ফলনের আশায় গাছে প্রয়োজনীয় স্প্রে ও পরিচর্যা শুরু করেছেন।
বসতবাড়িতে আম চাষি মো. হামিদুল ইসলাম জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর গাছে মুকুল বেশি। যদি বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা শিলাবৃষ্টি না হয়, তবে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, মুকুল আসার এই সময়ে পাউডারি মিলডিউ ও অ্যানথ্রাকনোজসহ বিভিন্ন রোগ ও পোকার আক্রমণের ঝুঁকি থাকে।
এ জন্য কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক মাত্রায় ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক প্রয়োগ এবং সুষম সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।মুকুলের ঘ্রাণে বীরগঞ্জের প্রকৃতি এখন এক মনোমুগ্ধকর রূপ ধারণ করেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে এ বছর আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। এতে স্থানীয় বাজারে আমের সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি কৃষকরাও ন্যায্য মূল্য পাবেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন