রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আমের মুকুলের সৌরভে মুখরিত চিরিরবন্দর, বাম্পার ফলনের আশা

এনামুল মবিন(সবুজ)

ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম

আমের মুকুলের সৌরভে মুখরিত চিরিরবন্দর, বাম্পার ফলনের আশা

আমের মুকুলে ছেয়ে গেছে চিরিরবন্দর :ছবি-দিনাজপুর টিভি

শীতের বিদায় আর বসন্তের আগমনে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার সর্বত্র আম গাছে মুকুলের সমারোহ দেখা দিয়েছে। উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ও আবাসিক এলাকায় এখন গাছে গাছে দুলছে সোনালি-হলুদ রঙের মুকুল। বসন্তের অন্যান্য ফুলের সৌরভের সঙ্গে আমের মুকুলের মিষ্টি সুবাসে চারপাশের প্রকৃতি এক অন্যরকম রূপ ধারণ করেছে। 

গ্রামের প্রতিটি সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণ ও বসতবাড়ির আঙিনায় থাকা আম গাছগুলোতে এখন কেবলই মুকুলের মেলা। বাতাসে ভেসে আসা মুকুলের ঘ্রাণে যেমন মৌমাছিরা ভিড় করছে, তেমনি প্রকৃতির এই মনোমুগ্ধকর রূপ স্থানীয়দেরও দারুণভাবে আকৃষ্ট করছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবার চিরিরবন্দরে আম্রপালি, হিমসাগর, গোপালভোগ, মিশ্রীভোগ, ফজলি, ল্যাংড়া, নাগ ফজলি, ব্যানানা ম্যাঙ্গো, কার্টিমন, হাড়িভাঙ্গা, গৌরমতি ও বারি-৪ সহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উন্নত জাতের আমের চাষ হচ্ছে। 

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগেই গাছগুলোতে মুকুল দেখা দিয়েছে। বর্তমানে বাগান মালিক ও বাণিজ্যিক আম চাষিরা বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। আমের ভালো ফলন নিশ্চিত করতে তারা নিয়মিত সেচ, ওষুধ প্রয়োগ ও আধুনিক পদ্ধতিতে আম রক্ষণাবেক্ষণের নানা পদক্ষেপ নিচ্ছেন।আলোকডিহি ইউনিয়নের বাগান মালিক সামাদুল মোল্লা ও ফতেজংপুর ইউনিয়নের ফজলুল হক শাহ্ জানান, বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর আমের মুকুল অনেক বেশি। এমনকি ছোট আকারের গাছগুলোতেও প্রচুর মুকুল ধরায় তারা বেশ আশাবাদী। 

যদি বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা শিলাবৃষ্টি না হয়, তবে এবার আমের বাম্পার ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক চাষি এখন উন্নত পদ্ধতিতে আম সংরক্ষণের জন্য কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিচ্ছেন যেন ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়।চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জোহরা সুলতানা জানান, আম গাছে মুকুল আসার এই সময়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। 

ফলন ভালো পেতে হলে এখন পর্যাপ্ত সেচ নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনোভাবেই যেন গাছে পানির ঘাটতি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। মুকুল আসার পর সঠিক পরিচর্যা না করলে পোকামাকড় ও ছত্রাকের আক্রমণে ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মুকুল আসার আগে একবার এবং আম মার্বেল আকৃতির হওয়ার পর দ্বিতীয়বার বালাইনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সঠিক ব্যবস্থাপনা ও অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে এ বছর চিরিরবন্দরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি আমের উৎপাদন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।