এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম
খুলনা অঞ্চলে চলতি মৌসুমে তরমুজের আবাদ গত বছরের তুলনায় কিছুটা কমলেও ভালো ফলন ও প্রত্যাশিত বাজারদরে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ফলনের গুণগত মান এবার বেশ উন্নত হয়েছে এবং সরাসরি ক্ষেত থেকেই ভালো দামে পণ্য বিক্রি করতে পারছেন চাষিরা। কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় চাষিদের দেওয়া তথ্যমতে, আবাদ কমলেও সামগ্রিক উৎপাদন ও আর্থিক মুনাফার দিক থেকে এ বছর তরমুজ চাষিদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলায় ১৩ হাজার ১৫৬ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ হয়েছে। অথচ গত বছর এই আবাদের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় আবাদ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
জেলাজুড়ে প্রতি হেক্টরে গড়ে ৩৮ মেট্রিক টন তরমুজ উৎপাদিত হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে দাকোপ উপজেলায়, যার পরিমাণ প্রায় ৬ হাজার ৮০০ হেক্টর। বর্তমানে জাতীয় পর্যায়ে তরমুজ উৎপাদনের দিক থেকে খুলনা জেলা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
আবাদ কমার নেপথ্যে থাকা কারণ হিসেবে কৃষি কর্মকর্তারা জানান, গত মৌসুমে অনেক চাষি ন্যায্যমূল্য না পেয়ে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছিলেন। এর ফলে অনেক কৃষক এ বছর তরমুজ চাষের ঝুঁকি না নিয়ে সূর্যমুখী বা অন্য বিকল্প শস্যের দিকে ঝুঁকেছেন। তবে যারা ঝুঁকি নিয়ে তরমুজ আবাদ অব্যাহত রেখেছেন, তারা এখন সফলতার মুখ দেখছেন। বর্তমানে খুলনার খুচরা বাজারে বড় আকারের তরমুজ কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং মাঝারি ও ছোট আকারের তরমুজ ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি পর্যায় থেকেও কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন।
দাকোপ উপজেলার চাষি মো. সোহেল রানা তার অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকার মতো আয় করেছেন। বিঘা প্রতি সব খরচ বাদ দিয়ে তার লাভ বেশ সন্তোষজনক হয়েছে। একই এলাকার আরেক কৃষক আব্দুল করিম জানান, প্রতি বিঘা জমিতে চাষাবাদে খরচ হয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার মতো। অথচ এবার বাজার ভালো থাকায় সেই তরমুজ তিনি ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পেরেছেন। এতে করে বিঘাপ্রতি গড়ে প্রায় ৩০ হাজার টাকা লাভ থাকছে, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি।
খুলনা অঞ্চলের বিশেষ করে দাকোপ ও কয়রা উপজেলার তরমুজ এর চমৎকার স্বাদ ও উজ্জ্বল রঙের জন্য সারা দেশে সুপরিচিত। পাইকগাছা ও কয়রা এলাকার অধিকাংশ জমির তরমুজ ইতিমধ্যে তোলা শেষ হলেও দাকোপে এখনো প্রায় ৬০ শতাংশ ফসল মাঠে রয়েছে। বড় ব্যাপারীরা সরাসরি ক্ষেত থেকে তরমুজ কিনে ট্রাকবোঝাই করে রাজধানী ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও কুমিল্লার বাজারে সরবরাহ করছেন। প্রতিদিন শত শত ট্রাক তরমুজ নিয়ে খুলনার বিভিন্ন উপজেলা থেকে রওনা দিচ্ছে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের উদ্দেশ্যে।
খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম এই পরিস্থিতির ওপর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এ বছর অতিরিক্ত বৃষ্টি না হওয়ায় তরমুজের মিষ্টতা ও গুণগত মান অনেক ভালো রয়েছে। বৃষ্টির অভাব নিয়ে অনেকের মধ্যে প্রাথমিক আশঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা মান রক্ষায় সহায়ক হয়েছে। কৃষকরা মাঠ থেকেই ভালো দাম পাওয়ায় পুরো মৌসুম শেষে তাদের মোট আয় যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক হবে বলে তিনি মনে করেন। আগামী অন্তত এক মাস পর্যন্ত খুলনার এই রসালো তরমুজ বাজারে সরবরাহ অব্যাহত থাকবে বলে কৃষি বিভাগ আশা করছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন